• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০১৯, ০২:১৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১৮, ২০১৯, ০২:১৪ পিএম

২৯ ওয়ার্ডের হালচাল

মশার ওষুধ ছিটানো মেশিনের শব্দ শোনা যায়নি ২ বছর

তোফাজ্জল হোসেন 
মশার ওষুধ ছিটানো মেশিনের শব্দ শোনা যায়নি ২ বছর

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার প্রধান সমস্যা গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কট। এছাড়া সন্ত্রাস ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এখনও নির্মূল হয়নি। পাশাপাশি চলতি বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই ওয়ার্ডে ঠিকভাবে মশার ওষুধ ছিটানো হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু ওয়ার্ড কাউন্সিলর দাবি, মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

 

২৯ নম্বর ওয়ার্ডের জহুরী মহাল্লার ৩৫/১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা তৈয়ব আলী দৈনিক জাগরণকে বলেন, কাউন্সিলর ও রাজনীতিবিদরা সব সময় নিজের এলাকার শতভাগ উন্নয়ন এবং সফলতার দাবি করবে এটাই স্বাভাবিক। বাস্তবে তাদের বক্তব্য আর কাজের ব্যাপক অমিল। গত দুই বছরে জহুরী মহল্লায় মশার ওষুধ ছিটানো মেশিনের কোনো শব্দ শোনা যায়নি। গতকাল সোমবার বিকালে হঠাৎ কানে বেঁজে উঠলো ফগার মেশিনের শব্দ। তাকিয়ে দেখি ধোঁয়ায় সব অন্ধকার। 

মোহাম্মদপুর এফ ব্লকের ১৭/১১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দারা অতিকুর রহমান জানান, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন দৃশ্যমান। তবে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ সমস্যার এখনও কাটেনি। এছাড়াও সামান্য বৃষ্টি হলেই জহুরী মহল্লার রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা জরুরি। কারণ জহুরী মহল্লার মানুষকে বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বিজলী মহল্লার মনির হোসেন নামে এক চায়ের দোকানী বলেন, দীর্ঘদিন পর সোমবার সকালে স্প্রে মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটাতে দেখা গেছে। আর বিকালেও যে ওষুধ দিয়েছে মেশিনের বিকট শব্দ আর কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার দেখলাম। জানার আগ্রহ হল, হঠাৎ মশার ওষুধ ছিটানোর কারণ কী? পরে জানতে পারলাম সিটি করপোরেশন ডেঙ্গুরোধে মশা নিধনে ওষুধ ছিটানোর কাজ করছে। 

টিক্কা পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা অমির হোসেন (ড্রাইভার) নামে এক ব্যক্তি বলেন, এই এলাকার সাবেক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক মোহাম্মদপুর এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এই এলাকায় সন্ত্রাসীর আড্ডা ছিল। বর্তমানে এ সমস্যা অনেকটাই কমেছে।

সরেজমিন জহুরী মহল্লার আরেক বাসিন্দা শাহাদত হোসেন বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর মানুষ হিসেবে বেশ ভাল। তবে তার ওয়ার্ড সচিব সুবিধার মানুষ না। তিনি দীর্ঘদিন মশক নিধন কর্মীদের কাছ থেকে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পরে আর মশার ওষুধ ছিটাননি। এ কারণে পরে আর ফগার মেশিনের শব্দ শোনা যায়নি। দুই বছরের মশার ওষুধের হিসাব করলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।

জানা যায়, রাজধানীর অন্যতম চাউলের আড়ৎ কৃষি মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা মোহাম্মদপুর থানার অন্তর্ভুক্ত। এই ওয়ার্ডে প্রায় ৪ লাখ লোকের বসবাস। এক সময় এটি অবিভক্ত ডিসিসি-৪২ নম্বর ওয়ার্ড ছিল। কিন্তু ২০১১ সালে ওয়ার্ডটি বিভক্ত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 

জানা গেছে, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ২৫ কি.মি. এলাকার মধ্যে ৭০ ভাগ রাস্তাঘাট পাকা। আর সব মিলিয়ে আনুমানিক ৫ কি.মি রাস্তা ভাঙাচোরা রয়েছে। বর্তমানে এই ওয়ার্ডের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য ১১২জন পরিচ্ছন্নকর্মী, ১০ জন মশক নিধনকর্মী নিয়োজিত রয়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ওয়ার্ডটিতে আরও একটি ময়লা সরানোর গাড়ি প্রয়োজন। জানা যায়, এরইমধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য মেয়র বরাবর চিঠি দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। এতে রাস্তাঘাটের সমস্যা সমাধান, পরিচ্ছন্ন কাজের ময়লা-আবর্জনা সরানোর জন্য একটি গাড়িসহ অর্থ বরাদ্দও চাওয়া হয়।

 

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দেয়া তথ্য মতে, মোহাম্মদপুর আদাবর থানার সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খেলার মাঠ, পার্কসহ বেশ কিছু বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করায় ২৯নং ওয়ার্ডটিকে এক কথায় পরিচ্ছন্ন এলাকা বলা চলে। 

তবে বর্তমান সংসদ সদস্য সাদেক খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার চুরি, ছিনতাই মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে। মানুষ এখন শান্তিতে দিন রাতে চলাফেরা করছে। রাস্তাঘাটে খুব একটা সমস্যা নেই। তবে শত উন্নয়নের পরেও প্রতিদিনই নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। 

২৯ নম্বর ওয়াডের্র এলাকাগুলো হচ্ছে -আজিজ মহল্লা,বিজলী মহল্লা, জহুরী মহল্লা, টিক্কা পাড়া, মোহাম্মদপুরের পূর্বও পশ্চিম সি ব্লক, এফ ব্লক। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে বিজলী মহল্লার সামনের রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া ওয়াসার পানিতে মাঝেমাঝেই দুর্গন্ধ, গ্যাসের সমস্যা লেগেই আছে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরুর ইসলাম রতন দৈনিক জাগরণকে বলেন, আমার জানামতে এই এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। এ কারণে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর খবর আমার কাছে আসেনি। তিনি বলেন,পরিষ্কার থাকায় মশার উপদ্রব ও কম। 

রাজধানী জুড়ে ডেঙ্গু নিয়ে তোলপাড় চলছে। সে হিসেবে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার জনগণ সুবিধা জনক জায়গায় রয়েছে। তারপরেও মহল্লার সব মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বাসা বাড়িতে সবাইকে ডেঙ্গুরোগ থেকে সচেতন থাকার বিষয়ে জানানো অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে সকাল-বিকাল ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাসা বাড়ির ছাদেও ওষুধ দেয়া হচ্ছে।

টিএইচ/একেএস
 

আরও পড়ুন

Islami Bank