• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০১৯, ০৮:১৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১১, ২০১৯, ০৮:১৩ পিএম

কোরবানীর ঈদে বাড়ে মৌসুমি কসাইদের কদর

হালিম মোহাম্মদ
কোরবানীর ঈদে বাড়ে মৌসুমি কসাইদের কদর

পবিত্র ঈদুল আজহার সব আনন্দই যেন কোরবানির পশুকে কেন্দ্র করে। জবাই থেকে শুরু করে কাটাকুটি- অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার। কোরবানিদাতাদের অধিকাংশই এত পরিশ্রম করতে চান। তাই কাজের সহযোগিতার জন্য কোরবানির ঈদে বেড়ে যায় কসাইদের কদর।

পেশাদার কসাইর পাশাপাশি আছেন মৌসুমি কসাইরা। এদের মধ্যে দিনমজুর, রিকশাচালক, মাছ ও সবজি বিক্রেতার সংখ্যাই বেশি।

রাজধানীতে পেশাদার কসাইয়ের সংখ্যা নিয়ে সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। ঈদুল আজহায় এ সংখ্যা ৫০ হাজারও ছাড়িয়ে যায়। পশু কাটার মৌসুমে তারা নিজের পেশা ছেড়ে কসাই বনে যান। এদের অনেকেই একটু বেশি লাভের আশায় গ্রাম ছেড়ে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতেও পাড়ি জমান। যার বেশির ভাগ লোক আসেন উত্তরবঙ্গ থেকে। 

বাড়তি আয়ের আশায় ঢাকায় জড়ো হয় মৌসুমি কসাইরা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসে ঈদসহ মোট তিন দিন কাজ করে আবার গ্রামে ফিরে যান তারা। নির্দিষ্ট দাম ঠিক করা না হলেও গরু হিসেবে তারা ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা পান বলে জানা গেছে। এছাড়া জবাই থেকে চামড়া ছাড়ানো এক দাম আর মাংস বানানোর আরেক দামে কসাইরা কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কেউ চালান রিকশা, কেউ চালান ভ্যান। তাদেরই অনেকে আবার দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রামগঞ্জে করেন দিনমজুরের কাজ। তারা সবাই ঈদুল আজহায় কিছু বাড়তি আয়ের আশায় বাড়ি না গিয়ে রাজধানীতে রয়েছেন মৌসুমি কসাই হয়ে। আবার অনেকেই গ্রামগঞ্জ থেকে ঈদের দু’দিন আগে রাজধানীতে এসেছেন কসাই কাজ করার জন্য।

যেখানে নিয়মিত কসাইদের একটি কোরবানির গরু কাটতে দিতে হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা মতো, সেখানে এই মৌসুম কইসাইদের তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিলেই তারা রাজি। সঙ্গে কয়েক কেজি কোরবানির মাংস দিলে তারা মহাখুশি।

মৌসুমি কসাই আমিনুল হকের গ্রামের বাড়ি নওগাঁয়। তিনি রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকায় কোরবানির পশু কাটেন। তিনি বলেন, ঢাকায় এসেছেন দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে। ঈদের দুই তিন দিন পশুর চমড়া ছাড়ানো ও মাংস বানানোর কাজ করবেন। কাজ শেষে যা উপার্জন হবে তা নিয়ে পরে বাড়ি ফিরবেন।

আরেক মৌসুমি কসাই সাইফুল পাবনা থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, প্রতি বছরই ঢাকায় ঈদের সময় কসাইয়ের কাজ করেছেন। প্রতিবারেই বেশ আয় হয়। গরুর দাম হিসেবে প্রতি হাজারে ১০০-১৫০ টাকা অথবা মালিকের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে দাম ঠিক করে কাজ করেন। তিনি আরও জানান, সামান্য টাকার বিনিময়েই তারা কাজ করেন। তাদের চাহিদা খুব বেশি নয়। এর সঙ্গে মালিকের দেওয়া কিছু কোরবানির মাংস তাদের ঈদ আনন্দকে দ্বিগুণ করে তোলে।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম এ বিষয়ে বলেন, কোরবানির ঈদের সময় কসাইয়ের চাহিদা বেড়ে যায। এসময় মৌসুমি কসাইয়ের দৌড়াত্ম্যও অনেকাংশে বেড়ে যায়। তারা ইচ্ছামত দাম রাখে।  তিনি বলেন, মৌসুমি কসাইদের দিয়ে অনেক সময় কাজ করাতে গিয়ে চামড়া এবং মাংস নষ্ট হয়ে যায়। তবে কোরবানি দেওয়ার তুলনায় পেশাদার কসাই কম থাকায় মৌসুমি কসাইদের কাজ বন্ধ করা যাবে না।

বাংলাদেশ হাইডস অ্যান্ড স্কিনস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, বছরে যে সংখ্যক পশু জবাই হয় তার ৪৫-৫০ শতাংশই কোরবানি ঈদে জবাই হয়ে থাকে। তাই ঈদের সময় এত বিপুলসংখ্যক পশু জবাই হওয়ায় পেশাদার কসাইদের দিয়ে পশুর চামড়া ছাড়ানো সম্ভব হয় না। ফলে এ সময় বেড়ে যায় মৌসুমি কসাইদের চাহিদা।

এইচ এম/এসকে