• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০১৯, ০৯:৫৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৮, ২০১৯, ০৯:৫৪ পিএম

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাব

যানবাহন সংকট ও বৃষ্টি বিড়ম্বনায় রাজধানীবাসী

হালিম মোহাম্মদ 
যানবাহন সংকট ও বৃষ্টি বিড়ম্বনায় রাজধানীবাসী
রাজধানীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীসহ সারাদেশে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে আকাশ ছিল মেঘলা।  দুপুর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে ছুটির দিন অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ায় রাজধানীর রাস্তা ছিল অনেকটা ফাঁকা। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা খুবই কম।অনেকতেই বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। গণপরিবহন কম থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 
 
রাজধানীর ২৩ ফ্রি স্কুল ষ্ট্রীট হাতিরপুলের বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ জানান, তার খালাকে নিয়ে সকালে গিয়েছিলেন মহাখালী হাসপাতালে। সেখান থেকে বিকেল ৫টায় বাসায় ফিরতে গিয়ে পড়েছেন বিড়ম্বনায়। রাস্তায় গাড়ি সংকট। সিএনজি অটোরিকসা খুবই কম। পাওয়া যাচ্ছিল না। রোগী নিয়ে অনেক কষ্টে মহাখালী রেলগেট থেকে রিকসায় বাসায় ফেরেন।

এদিকে নাজিম উদ্দিন রোডের ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন জানান,তিনি বিকেল ৫টায় তার ভাইকে বরিশাল গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে সদরঘাট রওয়ানা হয়ে যান। ভিজে ভিজে তিনি ও তার ভাই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখেন আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বরিশালগামী সব লঞ্চ বন্ধ রয়েছে। গাড়ি সংকটে সেখান থেকে গন্তব্যে ফিরতে তার অনেক সমস্যা হয়েছে।
 
সরকারি ছুটির দিন হলেও রাজধানীতে দুপুর থেকে অনবরত গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির ফলে বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে তেমন দর্শনার্থী দেখা যায়নি। বিশেষ করে জাতীয় যাদুঘর, শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরী, টিএসসি, শিশু মেলা, শিশু একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমীতে লোকজন সংকটে অন্য দিনের মতো জমে উঠেনি। বৃষ্টি বিড়ম্বনায় সিংহভাগ লোক বাসা থেকে বের হননি। 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ প্রবলভাবে ধেয়ে আসায় সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সবধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। ঘুর্ণিঝড় বুলবুরের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিআইডব্লিউটিএ এই নির্দেশনা জারি করেছে বলে জানান সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার। এর আগে দুপুর ১২টার পর থেকে ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের হাতিয়া, বেতুয়া, রাঙ্গাবালীসহ কয়েকটি রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুলবুল আরও শক্তিশালী হয়ে আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কায় বাগের হাটের মোংলা এবং পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজারে ৪ নম্বর সংকেত অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. মো. এনামুর রহমান। এরইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২২টি মন্ত্রলণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মনিটরিং সেলের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী একথা জানিয়েছেন।
 
ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাতের যেকোনো সময় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। উপকূলীয় সাতটি জেলা ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে পাঁচ থেকে সাত ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

এইচ এম/বিএস 
 

আরও পড়ুন