• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৫:১৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৫:২৭ পিএম

মূল্যবৃদ্ধির গুজব : কারওয়ান বাজারে লবণ নিয়ে কাড়াকাড়ি

রিকু আমির
মূল্যবৃদ্ধির গুজব : কারওয়ান বাজারে লবণ নিয়ে কাড়াকাড়ি
কারওয়ান বাজারে শত শত লবণ ক্রেতার কারণে এলাকার পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে উঠলে একপর্যায়ে পুলিশ আসে -ছবি : জাগরণ

লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজবে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লবণ বিক্রির দোকানগুলোয় কাড়াকাড়ি শুরু করেছে সাধারণ ক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে এদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকা সত্ত্বেও দোকান খুলে দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে লবণ। তবে প্যাকেটের গায়ে উল্লেখ করা মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হয়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারওয়ান বাজারে এসেছে তেঁজগাও থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সরেজমিনে এসব দৃশ্য দেখা গেছে। 

কারওয়ান বাজারের মাছ বাজারের আশপাশে রয়েছে শত শত মুদি দোকান। এসব দোকানের প্রতিটিতে লবণ বিক্রি হয়। বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে যেতেই দেখা গেছে কয়েক কেজি করে লবণ কিনছেন সাধারণ মানুষ। ৫ কেজির নিচে কাউকে লবণ কিনতে দেখা যায়নি।   একজন নারী ২০ কেজি পর্যন্ত প্যাকেটজাত লবণও কিনেছেন। 

মুদি দোকানগুলোয় আসা প্রায় শতভাগ ক্রেতাই লবণ কিনতে এসেছেন। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির মতো লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজবে কান দিয়েছেন তারা। উচ্চ শিক্ষিত-নিরক্ষর নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ক্রেতা। কেউ কেউ অফিস ছুটি হওয়ার আগেই বের হয়েছেন লবণ কেনার উদ্দেশে। 

কারওয়ান বাজার এলাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন নাঈম আহমেদ। পরনে কোট-প্যান্ট-সু। এসেছেন লবণ কিনতে। ৫ কেজি প্যাকেটজাত লবণ কিনেছেন তিনি। এত লবণ দিয়ে কী করবেন? বললেন, পেঁয়াজের মতো লবণের দামও বাড়তে পারে। এরকম শোনা যাচ্ছে। এজন্য বেশি করে নিচ্ছি। এসব তো আর ফেলে দেব না। 

কোথায় বা কার কাছে শুনেছেন লবণের দাম বাড়তে পারে- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, মানুষজন বলাবলি করছে। 

২০ কেজি প্যাকেটজাত লবণ কিনেছেন গৃহিণী কাজী মরিয়ম। এত লবণ কেন? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কই নাকি ১০০ টাকা কেজি লবণ বিক্রি হইতেসে, ফেসবুকে দেখছি। এজন্য দৌঁড়ায়া আসছি বাড়ায়া লবণ কিনতে। পেঁয়াজ ছাড়া না হয় খাবার খেলাম, কিন্তু লবণ ছাড়া তো খাওয়া যায় না।’ 

দেখা গেছে, প্রতিটি ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত লবণ প্যাকেটের গায়ে থাকা মূল্যে তো বটেই, ব্র্যান্ডভেদে সেই মূল্য থেকে ২-৬ টাকা কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। 

‘তাহলে দাম বাড়ল কই’- প্রশ্ন রেখে লবণ বিক্রেতা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বাঙালি এখনো মানুষ হয় নাই। এইসব মানুষ খুব খারাপ।  কইত্তে কী হুনছে, আর নাচানাচি শুরু করছে। আমরা ব্যবসা করি, আমাগো কাছেই লবণের দাম বাড়ার খবর নাই।  আর হেরা হুনছে দাম বাড়ব। যত্তসব ফাইজলামি।’ 

লবণ বিক্রেতা মনসুর হোসেন বলেন, ‘কই শুনছেন লবণের দাম বাড়ব? এইসব কথা আপনেরা যে কই পান আল্লায় জানে। এইসব কইরা আপনেরা বাজারে লবণের টান ফালাইবেন। পরে দেখা যাইব- আপনেগো কারণে লবণের দাম বাড়ব।’ 

এদিকে, শত শত লবণ ক্রেতার কারণে এলাকার পরিবেশ যখন ব্যাপক বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছিল তখন এসে পৌঁছে তেজগাঁও থানা পুলিশের একটি দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন এসআই মোশাররফ হোসেন। তিনি লবণ বিক্রির দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের উদ্দেশে বলছিলেন, লবণের দাম বাড়েনি। আপনারা গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। অযথা কেউ বাড়তি লবণ কিনবেন না। 

এসময় এসআই মোশাররফ হোসেনকে ঘিরে ধরেন শত শত কৌতূহলী ক্রেতা-বিক্রেতা। সবাই যে যার মতো প্রশ্ন করে ‘লবণের মূল্য বাড়েনি’ বলে নিশ্চিত তথ্য শোনেন তার কাছ থেকে। 

তবে এসআই মোশারফ হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা সামলাতে পারছিলেন না পরিস্থিতি। তিনি থানায় বিষয়টি জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে আসেন ওসি শামীম অর রশিদ তালুকদার। তিনি এসে বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়ান এবং ক্রেতাদের গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানান। একইসাথে নির্দেশ দিয়ে যান, যেন এক কেজির বেশি লবণ বিক্রি না করা হয়। 

কিন্তু এতেও কাজ হচ্ছিল না। পরে ওসির নির্দেশে পুলিশ সব দোকান বন্ধের কাজ শুরু করে। বিকাল সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় মাছ বাজারের অংশে থাকা লবণের দোকানগুলো বন্ধ ছিল। এসব জায়গায় পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে। 

আরএম/ এফসি

আরও পড়ুন