• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ০৮:৫৮ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ০৯:০০ এএম

নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে নতুন সড়ক আইনে মামলা

জাগরণ প্রতিবেদক
নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে নতুন সড়ক আইনে মামলা
গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করছে ট্রাফিক পুলিশ-ফাইল ছবি

সড়ক আইন ২০১৮

.....

● ধাপে ধাপে জরিমানা 

● দ্বিতীয়বার অপরাধের জন্য দ্বিগুণ জরিমানা

●  এখন পস মেশিন নয়, কাগজে হবে মামলা

নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এ মামলা কার্যক্রম শুরু করবে ট্রাফিক পুলিশ। এরই মধ্যে প্রায় ৮০০ ট্রাফিক সার্জেন্টকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। 

ট্রাফিক বিভাগ জানায়, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে নতুন আইনের মাধ্যমে মামলা দেয়া হবে। এখন কাগজে মামলা দেয়া হবে। মামলা দেয়ার ফরম তৈরি করেছে ট্রাফিক বিভাগ। নতুন এই ফরমে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, অভিযুক্তের নাম, স্থায়ী ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর থাকবে। এছাড়া অপরাধ সংগঠনের সাক্ষীর নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর থাকবে।

ফরমে ৯ ধরনের অপরাধের জরিমানার পরিমাণ (সাময়িকভাবে) উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরমে আইনের ধারা ৬৬ অমান্য করলে প্রথমবার পাঁচ হাজার এবং দ্বিতীয়বার ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়ার ঘর রাখা হয়েছে। এই ধারাটি ড্রাইভিং লাইন্সেন্স না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার, ভিন্ন লাইসেন্স ও পেশাদার লাইসেন্স না নিয়ে গণপরিবহন চালালে সে সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে। এই ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ড।

ধারা ৭২ ও ৭৫ অমান্য করলে প্রথমবার ১০ হাজার ও দ্বিতীয়বার ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা উল্লেখ রয়েছে। ৭২ ধারায় রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ও ছয় মাসের কারাদণ্ডে বিধান রয়েছে।

৭৫ ধারায় ফিটনেস না থাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ থাকাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে। এ ধারায়ও সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ও ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

৮৪ ধারায় মোটরযানের কারিগরি ত্রুটি থাকলে প্রথমবার ১৫ এবং দ্বিতীয়বার ৩০ হাজার টাকা জরিমানা নেবে পুলিশ। এই ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও তিন বছরের কারাদণ্ড।

গাড়িতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোড নিলে ৮৬ ধারায় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা, এক বছরের জেল ও দুই পয়েন্ট কর্তন করার বিধান রয়েছে। তবে প্রথমবার এই অপরাধে ডিএমপি ১০ হাজার ও দ্বিতীয়বারের জন্য ২০ হাজার টাকা আদায় করবে।

৮৭ ধারায় বেপরোয়া গাড়ি চালালে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান উল্লেখ থাকলেও এই অপরাধে ডিএমপি ২৫০০ এবং দ্বিতীয়বারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করবে।

৮৯ ধারায় ঝুঁকিপূর্ণ যান চালিয়ে পরিবেশ দূষিত করলে প্রথমবার ছোট গাড়ি ২৫০০ এবং বড় গাড়ির জন্য পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ছোটগাড়িকে পাঁচ হাজার ও বড় গাড়িকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

৯২ ধারায় নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করে ছোট গাড়ি চালালে প্রথমবার এক হাজার ও দ্বিতীয়বার দুই হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। একই অপরাধে বড় গাড়ির চালককে যথাক্রমে তিন হাজার ও ছয় হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

৯৫ ধারায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে চালক বা কন্ডাক্টর যদি থাকে ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর না দেয় এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে, তাহলে প্রথমে তাকে পাঁচ হাজার ও দ্বিতীয়বার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

নির্ধারিত ফরমে অভিযুক্তের স্বাক্ষর নেয়া হবে। প্রয়োজনে শুনানির জন্য ডিসি অফিসে হাজির হওয়ার তারিখ দেয়া হবে।

ট্রাফিক উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) প্রবীর কুমার রায় দৈনিক জাগরণকে বলেন, আইনে প্রথম দুবারের জরিমানা উল্লেখ করা থাকলেও তৃতীয়বারের কথা উল্লেখ নেই। তৃতীয়বার একই অপরাধ করলে নিজ নিজ বিভাগের ডিসি কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠানের পর তাকে মামলা, জরিমানা কিংবা সাজা দেয়া হতে পারে।

নতুন ট্রাফিক আইন প্রয়োগের বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশানর ট্রাফিক বিভাগ জসিম উদ্দিন আহমেদ দৈনিক জাগরণকে বলেন, নতুন আইন সম্পর্কে ডিএমপি থেকে যে ধরনের নির্দেশনা আসবে আমরা সেগুলো পালন করব।

তিনি বলেন, আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে এরই মধ্যে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রতিদিন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া সার্জেন্টসহ কর্মকর্তাদের আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আগে ডিএমপিতে পজ মেশিনের মাধ্যমে মামলা দিতাম, তবে সফটওয়্যার আপডেটের কারণে মেশিনে মামলা দেয়া আপাতত বন্ধ আছে। আমরা আগের নিয়মে কাগজের কেস শ্লিপ বই প্রিন্ট করেছি, সেটা দিয়ে আপাতত মামলার কাজ চালানো হবে।

এইচএম/এসএমএম

আরও পড়ুন