• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০২:১০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০২:২১ পিএম

নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ শুরু

 জাগরণ প্রতিবেদক
নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ শুরু

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর ট্রাফিক বিভাগ নতুন ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ প্রয়োগ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ডিএমপি ট্রাফিকের ৪টি বিভাগ সীমিত পরিসরে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা খুব দ্রুত পুরোদমে শুরু করা হবে।

গত ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করার ঘোষণা দেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে প্রবল আপত্তি ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে পুলিশ এতো দিন আইন লঙ্ঘনকারীদের মামলা না দিয়ে নতুন আইন সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালায়।

ডিএমপির ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, সহকারী কমিশনার (এসি), সার্জেন্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডিএমপি ট্রাফিকের ৪ বিভাগে কয়েকটি উপ-বিভাগের এসিদের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয়েছে। যারা নিজস্ব এলাকার বিভিন্ন স্পটে ঘুরে আইন প্রয়োগ করছে। এসি ছাড়াও দলে কয়েকজন সার্জেন্ট, এএসআই ও কন্সটেবল  রয়েছেন। নির্ধারিত ছাপানো ফর্মে বর্তমানে মামলা দেয়া হচ্ছে।

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে মামলা -ছবি : জাগরণ

দেখা গেছে, ফর্মে ঘটনার তারিখ, ঘটনাস্থলের ঠিকানা, অভিযুক্তের নাম, পরিচয়, মোবাইল নম্বর লেখা হচ্ছে। পাশাপাশি একজন স্বাক্ষীর নাম, পরিচয়ও লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। একই সাথে কী অপরাধে, কত জরিমানা করা হচ্ছে তা উল্লেখ করা হচ্ছে। ফর্মের নিচে অভিযুক্তের ও অভিযোগকারীর স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, নতুন আইন প্রয়োগ খুব সাবধানতার সঙ্গে করা হচ্ছে। পজ মেশিনগুলো প্রস্তুত হয়ে গেলে পূর্ণাঙ্গভাবে মামলা দেয়ার কাজ শুরু হবে।

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে বেশির ভাগ ধারার জরিমানা ১০ থেকে ৫০ গুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেসব ধারায় এক মাস কারাদণ্ডের বিধান ছিল, এখন তা ২ বছর পর্যন্ত হয়েছে। আইনের বেশির ভাগ ধারাতেই সর্বোচ্চ শাস্তি কত হবে তা আছে, সর্ব নিম্ন শাস্তির উল্লেখ নেই।

১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার নতুন বাজার ভাটারা এলাকায় অর্থদণ্ড দেয়া হয় একজন মোটর সাইকেল চালককে। অপরাধ ছিল- ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, জরিমানার পরিমাণ ৫ হাজার টাকা। একই অপরাধ আবার করলে জরিমানার পরিমাণ হবে ১০ হাজার টাকা। এ মোটরসাইকেলের চালক মেহেদী দৈনিক জাগরণকে জানান, বিআরটি লাইসেন্স দিতে দেরি করছে। সেটা কেন দেখা হচ্ছে না?

একইদিন বিকাল ৫টার দিকে দরজা খুলে বাস চালানোর অপরাধে বনানী কাকলী এলাকায় একটি বড় বাসকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। একই অপরাধ আবার করলে ওই বাস চালকের অর্থদণ্ড হবে ৬ হাজার টাকা।

৩০ নভেম্বর থেকেই নতুন আইনে পুলিশ মামলা দেয়া শুরু করে।

ট্রাফিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আইন লঙ্ঘনকারীর ভিডিও চিত্র ধারণ করা হচ্ছে। এরপর তাকে থামিয়ে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি জানানো হচ্ছে। তিনি কীভাবে আইন লঙ্ঘন করেছেন, তা বলা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে মামলা দেয়া হচ্ছে। এতে মানুষ ট্রাফিক পুলিশকে ভুল বুঝবে না।

ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মনজুর মোর্শেদ জানান, বিজয় সরণি মোড়ে প্রথম দিন তারা ৫টি মামলা দিয়েছেন। যারা উল্টো পথে চলাচল করেছে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও পিকআপকে এই মামলা দেয়া হয়েছে।

আরএম/একেএস

আরও পড়ুন