• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০১৯, ০৭:২০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৮, ২০১৯, ০৭:২০ পিএম

উত্ত্যক্তের শিকার মীমের আত্মহত্যা, বখাটেদের শাস্তি দাবি 

জাগরণ প্রতিবেদক
উত্ত্যক্তের শিকার মীমের আত্মহত্যা, বখাটেদের শাস্তি দাবি 
বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে আত্মহত্যাকারী নবম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা শিমুল তিথি ওরফে মীম (১৪)


বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে বাগেরহাটের চিতলমারীতে সম্প্রতি আত্মহত্যা করে নবম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা শিমুল তিথি ওরফে মীম (১৪)। এ অকাল মৃত্যুর প্রতিবাদ ও বখাটেদের কঠোর বিচারের দাবি জানিয়েছে ফোরাম ৯৭ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামে একটি সামাজিক সংগঠন। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মীমের অকাল মৃত্যুর প্রতিবাদ জানায়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে মীমের সহপাঠী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।    

এদিকে মীমকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে ঘটনার পর থেকে মীমের সহপাঠীদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে নিরবতা পালন ও মানববন্ধন করেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এর প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় বখাটেমুক্ত নিরাপদ পথের নিশ্চয়তার দাবি করেন। 

জানা গেছে, মীম ছিল মুক্তবাংলা চারিপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর দুই মাস আগে একই স্কুলের দশম শ্রেণির অর্পিতা মন্ডল উত্ত্যক্তকারীদের কারণে মারা যায়।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রবীর চন্দ্র দাস বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে নাজির পুরের চর মাটিভাঙ্গা গ্রামের বাধন শেখসহ দুই বখাটে যুবক উত্ত্যক্ত করত মীমকে। অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েটি হাতজোড় করে বখাটেদের বড় ভাই ডেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বখাটেরা আরো বেপরোয়া হয়ে মেয়েটিকে জড়িয়ে নানা আপত্তিকর কথা স্কুল ও গ্রামে ছড়িয়ে দেয়। 

স্থানীয় নাজমুল হক টিপু, শাহীন কাজী জানান, বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে বিদ্যালয়টিতে একের পর এক মেয়ে আত্মহত্যা করছে। গত পাঁচ এপ্রিল মীম ওরফে তিথি আত্মহত্যা করে। এর দুই মাস আগে দশম শ্রেণির অর্পিতা উত্ত্যক্তকারীদের কারণে মারা যায়। স্থানীয় ও প্রভাবশালী উত্ত্যক্তকারী যুবকরা পাশের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা, বরইবুনিয়া এলাকা থেকে এসে বিদ্যালয়ের পথে বসে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছে।

তিথির বড় চাচা লেখক ইউসুফ আল মামুন জানান, তিথি দাদা-দাদির কাছে থেকে লেখাপড়া করত। চিতলমারীর হিজলা ইউনিয়নের চরশৈলদাহ গ্রামে তার দাদাবাড়ি। তার বাবা মো. ইউনুস আলী শেখ ঢাকায় চাকরি করেন। নাজিরপুরের চরমাটিভাঙ্গা গ্রামের মো. ওমর শেখের পুত্র বাঁধন শেখ তার বন্ধুদের নিয়ে তিথিকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করত। গত ৪ এপ্রিল বাঁধন খুব কৌশলে তিথির মামাবাড়ি এলাকার খাদিজা আক্তারকে দিয়ে তিথিকে বেড়ানোর উদ্দেশে দাদাবাড়ি থেকে বের করে আনে। 
উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের কুনিয়া এলাকায় বাঁধনদের কাছে তিথিকে পৌঁছে দিয়ে খাদিজা চলে যায়। সেখানে বাঁধন ও তার বন্ধুরা তিথির সঙ্গে অশোভন আচরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বখাটেদের বাধা দিয়ে আটকে রাখে। তিথির চাচি মালা বেগম ওই সময় কাকতালীয়ভাবে পাটগাতী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথের জটলার মধ্যে তিনি তিথিকে দেখতে পান। সেখান থেকে তিনি তিথিকে দাদাবাড়ি ফিরিয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বদনাম রটে যায়। পরদিন ৫ এপ্রিল সকালে তিথি দাদাবাড়ির ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বলে দাদা মোখলেসুর রহমান (৮৫) জানান।

তিথির বাবা মো. ইউনুস আলী শেখ বাদী হয়ে এ বিষয়ে গত ১০ এপ্রিল বাগেরহাট আদালতে উত্ত্যক্ত ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। এর আগে ৫ এপ্রিল চিতলমারী থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়।

এইচএম/আরআই