• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০১৯, ০৫:৪৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ৩০, ২০১৯, ০৬:৩৪ পিএম

নুসরাত হত্যাকাণ্ড : কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় জোবায়ের

ফেনী সংবাদদাতা 
নুসরাত হত্যাকাণ্ড : কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় জোবায়ের

ফেনীর মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় রিমান্ডে থাকা আসামি জোবায়ের আহমেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

রোববার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল গণমমাধ্যমকে জানান, আসামি জোবায়ের আহমেদ হত্যার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ঘটনার সময় জোবায়ের নুসরাতের হাত-পা বাঁধতে ও নুসরাতের গায়ে কেরোসিন দিয়ে সে নিজে আগুন দেয়।   

এদিকে, এ মামলায় গ্রেফতার ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুনকে একই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে রাঙামাটির টিএনটি এলাকা থেকে রানা ও কুমিল্লার পদুয়া বাজার এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

আলোচিত এ মামলায় আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে এ পর্যন্ত ৮ আসামি জবানবন্দি দিয়েছে। এরা হচ্ছেন- মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন ও জোবায়ের আহমেদ। 

আলোচিত এ মামলা এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠি আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুন। এদের মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আট জনের মধ্যে সকল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি পরীক্ষা প্রথম পত্র দিতে গেলে মাদ্রাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ দিন পর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়। পরদিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে নুসরাতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।


 

আরও পড়ুন