• ঢাকা
  • বুধবার, ২২ মে, ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: মে ১৫, ২০১৯, ০১:২৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১৫, ২০১৯, ০১:২৫ পিএম

ভেজালের রাজ্যে কদর বেড়েছে কেমিকেল মুক্ত লিচুর

বরিশাল সংবাদদাতা
ভেজালের রাজ্যে কদর বেড়েছে কেমিকেল মুক্ত লিচুর

বাজারে লাল টকটকে লিচু উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সাতক্ষীরাসহ উত্তরাঞ্চলের লিচুতে ছেয়ে গেছে নগরীর পাইকারি ও খুচরা বাজার। তবে কৃত্রিম উপায়ে পাকানোর আশঙ্কায় এসব লিচুতে ভরসা পাচ্ছে না ক্রেতারা। তারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লিচুতেই সাদ মেটানোর চেষ্টা করছেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর সবচেয়ে বড় ফলের আড়ত ফলপট্টি ও পোর্ট রোডে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির লিচু আসতে শুরু করেছে। এখান থেকেই খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে।

বাজারে আশতে শুরু করা লিচুর বেশিরভাগই হাইব্রিড জাতের। যা মিষ্টি এবং ছোলা টকটকে লাল। কিন্তু এ লিচুতে তেমন ভরসা পাচ্ছে না ক্রেতা ও বিক্রেতারা। মৌসুমের প্রথমভাগে বাজারে ওঠা এসব লিচু ফরমালিনসহ কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দেশিয় লিচু সংকটের কারণে অনেকটা দুষ্প্রাপ্য ফলে পরিণত হয়েছে দেশিয় লিচু। তারপরেও অন্য অঞ্চল থেকে আসা লিচুর তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লিচুর মূল্য অনেকাংশেই কম।

লিচু ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রামাঞ্চলের লিচু গাছ থেকে পেড়ে সর্বনিম্ন ২৫টি থেকে ৫০ ও ১০০টি করে আটি বেঁধে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের এ লিচুর চাহিদা বেশি হওয়ায় একশ লিচুর মূল্য সাইজ ভেদে দেড়শ থেকে আড়াইশ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। আর অন্য অঞ্চল থেকে আসা একশটি লিচুর সর্বনিম্ন মূল্য ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ ও মেহেন্দিগঞ্জ সহ পটুয়াখালী, বরগুনা এবং ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন এলাকায় লিচুর ছোট বড় বাগান গড়ে উঠেছে। সেখান থেকে পাইকারি মূল্যে ক্রয় করা লিচু বাজারে খুচরা মূলে বিক্রি হচ্ছে। কোন প্রকার ক্ষতিকারক ক্যামিকেল না থাকার কারণে এ লিচু সহজেই পচন ধরে না।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ বৈদ্য বলেন, বাকাল গ্রামের ৯টি লিচু বাগানে দাদন দিয়ে রেখেছিলাম। এক কথায় ৯টি বাগানের ফল কিনে রেখেছি। এবারে প্রখর রোদের কারণে লিচুর সাইজ একটু ছোট। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় লিচু’র আকার আরো বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ লিচু উত্তরাঞ্চলের লাল টকটকে লিচুর থেকে একটু কম মিষ্টি। কিন্তু তারপরেও এর চাহিদা প্রচুর। তার মধ্যে পবিত্র রমজানের ইফতারে লিচুর চাহিদা রয়েছে। এসব কারণে এবারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লিচু লাভজনক হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।


টিএফ

Space for Advertisement