• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: মে ২৮, ২০১৯, ০৮:১৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২৮, ২০১৯, ০৮:১৩ এএম

অসহায় তিন কৃষকের ধান কেটে দিলো ছাত্রলীগ

নীলফামারী সংবাদদাতা 
অসহায় তিন কৃষকের ধান কেটে দিলো ছাত্রলীগ

নীলফামারীতে টাকার অভাবে ক্ষেতের পাকা ধান কাটতে না পারা এক নারীসহ তিন অসহায় গরিব কৃষকের ধান কাটে দিলেন জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 

সোমবার (২৭ মে) সকাল থেকে দিনব্যাপী জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের বাদিয়ার মোড় এলাকায় কৃষকদের মাঠে থাকা পাকা বোরো ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেয় তারা।
ধান কাটা শেষে বিকালে জেলায় সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগের সদস্যরা জানায়, ধানের মন্দা বাজারে টাকার অভাবে ওই গ্রামের নারী কৃষক বাবলী বেগম (৬০), কৃষক রঞ্জিত রায় (৩০) এবং আলমগীর হোসেন (৪৫) ক্ষেতের পাকা ধান কাটতে পারছিলেন না। একারণে দিনব্যাপী ওই তিন কৃষকের তিন বিঘা জমির ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেয় নেতাকর্মীরা। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনিরুল হাসান শাহ আপেল এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ সরকারের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয় কর্মসূচিতে। 

কৃষক রঞ্জিত রায় জানান, এবার তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন তিনি। বাজারে ধানের দাম কম। অপরদিকে শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ধান কাটতে পারছিলেন না। তাই কয়েকদিন ধরে অনেক কষ্টে নিজের শ্রমে দেড় বিঘা জমির ধান কেটেছেন। সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ধান ক্ষেতে গিয়ে তার সঙ্গে বাকি ধান কেটে দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের সদস্যদের ধান কেটে দেওয়ার অনুভুতিতে কৃষক বাবলী বেগম বলেন, ‘ধানের দাম নাই, আবাদ করি এমনিতে লোকশান। এলা এক বিঘা জমির ধান কাটিতে কিষাণ চায় দুই হাজার টাকা, এত টাকা মুই কোনঠে পাইম। এইজন্য ধান পড়ি ছিল জমিত। হঠাৎ করি ছাত্রলীগের ছাওয়ালা আসিয়া মোর ধান কাটি দিয়া বড় উপকার করিল। মুই ছাওয়ালার জন্য দোওয়া করিম বাহে।’

ছাত্রলীগের এমন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এভাবে আমরা প্রত্যেকে যদি ক্ষুদ্র কৃষকের পাশে দাঁড়াই তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বিপদগ্রস্ত কৃষকের মাঝে।’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মনিরুল হাসান শাহ্ আপেল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ সরকার বলেন, ‘এমনিতে বাজারে ধানের দাম কম, ক্ষুদ্র কৃষকরা ধান কাটার জন্য শ্রমিকের মজুরির টাকা যোগার করতে পারছেন না। এধরনের তিন জন কৃষককে খুঁজে বের করে আমরা ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। কৃষক বাছাই করে এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি জেলায় সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর দাবিতে জেলা প্রশাসকরে কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।’

কেএসটি