• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০১৯, ০৯:০২ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২০, ২০১৯, ০৯:০৬ এএম

লিচু চাষে সফল ঈশ্বরদীর আমিরুল

পাবনা সংবাদদাতা
লিচু চাষে সফল ঈশ্বরদীর আমিরুল
লিচু চাষি আমিরুল -ছবি : জাগরণ

লিচু চাষ করে সাফল্য পাওয়া একজন কৃষকের নাম আমিরুল। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া গ্রামের কাবেজ প্রামাণিকের ছেলে আমিরুল ইসলাম চাকরি কিংবা ব্যবসাতে না গিয়ে কৃষিকাজে জড়িয়ে পড়েন। পরিশ্রম মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় তার বাস্তব প্রমাণ আমিরুল নিজেই। তার বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় লাল টকটকে লিচু ঝুলে আছে। এবার তিনি লিচুর বাম্পার ফলন পেয়েছেন। এ বছর তার ‘আশিক কৃষি খামার’ থেকে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার লিচু বিক্রয় হবে বলে আশা করছেন আমিরুল।

লিচু চাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সালে মা-মাটিকে ভালোবেশে কোনো কিছু না ভেবে কৃষিতে জড়িয়ে পড়ি। কৃষিকে এখন আর ছোট করে দেখার উপায় নেই। আধুনিক কৃষি দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করে তুলছে। কৃষকরা কায়িক পরিশ্রম করে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে কৃষি পণ্য উৎপাদন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করতে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সঠিক পরামর্শ ও সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। অন্যান্য বাগানের চাইতে আমার ৯ বিঘার লিচু বাগানে এবার ব্যাপক ফলন হয়েছে, লিচু আকারে বড় হয়েছে। এ বছর লিচুর দাম কম হলেও আমার খামার থেকে ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, লিচু বছরে মাত্র একবার ফলন দিয়ে থাকে। প্রতি বছর একইভাবে গাছে লিচু আসে না। একবার বেশি হলে অন্যবার ফলন কম হবে। ঈশ্বরদীতে একটি আধুনিক মানের লিচুর হিমাগার স্থাপন হলে এই লিচু সারা বছর রেখে বিক্রি করা যাবে। এতে লিচু চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। 

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ও বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির কেন্দ্রিয় সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ বলেন, এ বছর ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন বেশ ভালো হয়েছে। উপজেলার বেশির ভাগ বাগানে এবার থোকায় থোকায় লিচু ধরেছে। আমিরুলের লিচু বাগান পরিদর্শন করে দেখা গেছে ঈশ্বরদীর সেরা লিচু এখন কৃষক আমিরুলের বাগানে। সঠিকভাবে পরিচর্যার কারণে আমিরুলের গাছের লিচু পরিমাণে বড় রং ও সুন্দর হয়েছে। লিচু সংরক্ষনের জন্য ঈশ্বরদীতে একটি আধুনিক মানের লিচুর হিমাগার স্থাপনে সরকারের কাছে তিনি দাবি জানান। 

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল লতিফ জানান, এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। উপজেলার অন্য লিচু বাগানের চাইতে আমিরুলের বাগানের গাছে প্রচুর পরিমাণে লিচু এসেছে। একই সঙ্গে লিচু আকারে বড়, দেখতে সুন্দর খেতেও সুস্বাদু, রং টকটকে লাল।

তিনি জানান, আমিরুল কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে লিচু গাছের পরিচর্যা করার কারণে তার লিচু বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর আমিরুল লিচু বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।


একেএস

Islami Bank