• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০১৯, ০৯:৩৬ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২৮, ২০১৯, ০২:৩৭ পিএম

রিফাত হত্যাকাণ্ড ভিডিওধারণকারীকে পুরস্কৃতের প্রস্তাব

হালিম মোহাম্মদ
রিফাত হত্যাকাণ্ড ভিডিওধারণকারীকে পুরস্কৃতের প্রস্তাব
প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার দৃশ্য

রিফাতের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) মধ্যরাত পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা লঞ্চঘাটে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে এবং ঘটনার পরই হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত চন্দনসহ আরো ২ জনকে আটক করা হয়। তাদের গোয়েন্দারা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে। 

এদিকে গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, যারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখছিলেন, তারা মনে হয় না সাধারণ পথচারী বা ছাত্র। অবশ্যই তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা নিশ্চিত করবো প্রথমে গ্রেফতার তারপর ন্যায় বিচার। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

এবিষয়ে রিফাতের স্ত্রী মিন্নি বলেন, ভিডিওতে যাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মূলত তারাই প্রথমে রিফাত শরীফ ও আমার পথ আটকে দিয়েছিলো। সেই সঙ্গে তিন-চারজন প্রথম দফায় রিফাত শরীফকে মারতে শুরু করেছিল। পরে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী চাপাতি দিয়ে রিফাত শরীফকে কোপাতে শুরু করলে তারা পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছিলো। এরপর আমি প্রাণপন চেষ্টা করেও রিফাত শরীফকে বাঁচাতে পারিনি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।
 
এবিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেছেন,  হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যটি যদি ভিডিও না করা হতো, তা হলে বিচারে এবং আসামি শনাক্তে জটিলতা দেখা দিত। যে ব্যক্তি ভিডিও  করেছেন, তার পরিচয় গোপন রেখে তাকে পুরস্কৃত করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, আর যারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছেন, তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর কাছে প্রস্তাব রইল।
 
এলিনা খানের মতে, বর্তমানে মানুষের ভেতরে ভয় কাজ করছে। মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার কারণে রিফাত মৃত্যুর ঘটনায় তাকে কেউ বাঁচাতে এগিয়ে যায়নি। সেখানে গিয়ে পুলিশের হয়রানিতেও পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে কেউ এগিয়ে যায়নি।
      
অপরদিকে রিফাত হত্যার ঘটনায় পুলিশ এরই মধ্যে চন্দনসহ ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিতের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ থেকে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়টিও জানিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে বুধবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা দুলাল শরীফ। এ মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চন্দন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, সকাল ৯টার দিকে স্বামী রিফাত শরীফের সঙ্গে বরগুনা কলেজে আসি আমি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দেই আমরা। বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে পৌঁছালে বেশ কয়েকজন যুবক আমাদের গতিরোধ করে। সেই সঙ্গে রিফাত শরীফকে মারধর শুরু করে তারা। এর মধ্যেই চাপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী।

মিন্নি বলেন, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী চাপাতি নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফারজী। এরপরই রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। আমি তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুতেই তাদের থামাতে পারিনি। রিফাতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায় তারা। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে রিফাত শরীফের মৃত্যু ঘটে।

বিস্তারিত জানতে আরও পড়ুন : পৈশাচিক নৃশংসতা চালানো সেই ১২ জন

এইচ এম/বিএস