• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০১৯, ০৯:৪৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ৭, ২০১৯, ০৯:৪৩ পিএম

ভোলায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ২৯

ভোলা সংবাদদাতা
ভোলায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ২৯

ভোলায় ঝড়ের কবলে পড়ে শনিবার (৬ জুলাই) পৃথক ৩টি ট্রলার ডুবে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এসব ট্রলারের মাঝি-মাল্লাসহ মোট ২৯ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ মৎস্যঘাটের বাবুল মাঝি ও নুরাবাদের সাজাহান মাঝির নেতৃত্বে দুটি ট্রলার শনিবার দুপুরে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে গেলে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। একই দিন বিকেলে মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজের আরেকটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।

শনিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাজের ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমার ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে ২ জুলাই সকাল ৭টায় মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ মৎস্যঘাট থেকে মনির মাঝির নেতৃত্বে ১৪-১৫ জন গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে গেলে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

সামরাজ মৎস্য আড়তদার সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা সমুদ্রে যাওয়া অন্য জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়েছি যে তারা গভীর সমুদ্রের তিনচর এলাকায় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ লোকজনকে ডুবে যেতে দেখেছে।’

সামরাজ মৎস্যঘাটের কেরানি মন্নান মিয়া বলেন, কালু মিয়ার ট্রলারের আবু কালাম মাঝি ওয়াজেদ আলীর ট্রলারটি ডুবে যেতে দেখেছেন এবং তিনি উদ্ধারের চেষ্টা করেও প্রবল ঝড়ের জন্য ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছেন।

শনিবার বিকেলে মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজের আরেকটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে মামুন মাঝিসহ ১৪ জন মাঝিমাল্লাকে অপর একটি ট্রলারে করে উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।

মাদ্রাজ ইউপির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল জমাদার মুঠোফোনে জানান, ‘গভীর সমুদ্রে ২টি ট্রলারডুবির খবর পেয়েছি। একটির মাঝিমাল্লা উদ্ধার হয়েছে, অপর ট্রলারটি উদ্ধারে অন্য একটি ট্রলার চেষ্টা করেও প্রবল ঝড়ের জন্য ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছে, আমরা সহায়তা পেতে থানা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা ট্রলারডুবির খবর পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে, কিন্তু ওয়াজেদ আলীর ট্রলার ডুবে গেছে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। তাদের জেলেদের সাথে এখনো যোগাযোগ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে মামুন মাঝির জালসহ ১টি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে এবং মামুন মাঝিসহ ১৪ জন সাঁতরে অন্য একটি ট্রলারের মাধ্যমে উদ্ধার হয়েছেন।

অপরদিকে নুরাবাদ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড থেকে সাজাহান মাঝির নেতৃত্বে শনিবার (৬ জুলাই) ভোর ৫টায় সমুদ্রে মাছ শিকারে গেলে ঢালচর চেন্যাল থেকে শিবচর-সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে বিকাল ৪টার সময় একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে মাঝিমাল্লাসহ মোট ১৪ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন ট্রলারের মাঝি মাদ্রাজ ইউনিয়নের চর নাজিমুদ্দি গ্রামের ৮ নং ওয়ার্ডের মুকুল সর্দারের ছেলে মো. মনির হোসেন (৪০), একই ওয়ার্ডের ওয়াজেদ আলীর ছেলে মো. জুয়েল, মাদ্রাজ ইউনিয়নের মৃত আবু মাঝির ছেলে জিহাদ হোসেন (৩৫), শাহে আলম মাঝির ছেলে মো. সেলিম (৪০), সহীদ ব্যাপারীর ছেলে বাবুল (২৫) নুয়ত ব্যাপারীর ছেলে অলি উদ্দিন (৫০), মহিউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে বেলায়েত হোসেন, তরিকুল ইসলামের ছেলে কামাল (৩৫), জিন্নাগড় ইউনিয়নের মৃত বজলু হাওলাদারের ছেলে অজিউল্লাহ, মৃত আ. হকের ছেলে মাকসুদ (২৫), শশিভূষণ থানার তৌছির ও জাহাঙ্গীর, নুরাবাদ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাজাহান মাঝি, সুলতান ও রুবেল।

এনআই

আরও পড়ুন