• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০১৯, ০৮:৪১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১৮, ২০১৯, ০৮:৪১ এএম

ইভিএম সংরক্ষণে আলাদা প্রকল্প নিচ্ছে ইসি

হাসান শাফিঈ
ইভিএম সংরক্ষণে আলাদা প্রকল্প নিচ্ছে ইসি


ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংরক্ষণের জন্য আলাদা প্রকল্প নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আলাদা এ প্রকল্প অনুমোদন পেলে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে নির্দিষ্ট তাপমাত্রার আলাদা কক্ষে সংরক্ষিত হবে ইভিএমগুলো। ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের সনাতন পদ্ধতির বদলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নিতে এরই মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশন। এ অনুযায়ী গত জাতীয় নির্বাচনে ৬টি আসনে সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার করা হয়।জাতীয় নির্বাচনের পর বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনসহ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কিছু আসনে ইভিএমে ভোট নেয়া হয়। নির্বাচনী ব্যবস্থা সহজ, নিরাপদ ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে ইভিএম এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় ভবিষ্যতের সব নির্বাচনেও ইভিএমে ভোট নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেড় লাখ ইভিএম কেনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ইভিএমগুলো কেনা হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধীনে থাকা বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে। প্রতিটি ইভিএমের দাম পড়ছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।তবে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, ইভিএম সংরক্ষণ নিয়ে।

সূত্র জানিয়েছে, ইভিএম কেনার জন্য চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যেখানে প্রতিটি মেশিনের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। কিন্তু এত দামী মেশিন কোথায় রাখা হবে, তার জন্য প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে যথাযথ যত্ন ছাড়াই এগুলো স্থান পাচ্ছিল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আর্দ্রতায় সংরক্ষণ করতে হয়। সেখানে ইভিএম একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। আর একটি ভোটিং মেশিনের দামও অনেক। সেখানে এগুলো সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করেই ক্রয় করা হচ্ছিল।

জানা গেছে, বর্তমানে কোনো আসনের ভোটগ্রহণ শেষে ইভিএমগুলো সংশ্লিষ্ট উপজেলা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু যথাযথভাবে সংরক্ষণ বলতে যা বোঝায়- তা হচ্ছে না। কেননা, ইভিএম সংরক্ষণের জন্য দরকার নির্দিষ্ট তাপমাত্রার আলাদা কক্ষ। যেখানে দীর্ঘদিন রাখলেও মেশিনগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট হবে না।

ইসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, ইভিএম প্রকল্প নেয়ার সময় সংরক্ষণের বিষয়টি ভাবা হয়নি। কিন্তু দেড় লাখ ইভিএম কোথায় রাখা হবে, এই প্রশ্নটি এখন সামনে চলে এসেছে। তাই দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়- এমন একটি কার্যকর উপায় এখন খোঁজা হচ্ছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে এ সংক্রান্ত কমিটি ইভিএম সংরক্ষণের জন্য নতুন আরেকটি প্রকল্প নেয়ার সুপারিশ করেছে।
 
সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমানে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় তথা সার্ভার স্টেশনগুলো উলম্বভাবে বাড়ানোর জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে সার্ভার স্টেশনের ওপরের তলায় ইভিএম রাখা হবে। তবে প্রকল্প প্রস্তাবনা এখনো তৈরি করা হয়নি।

সিদ্ধান্ত হয়েছে সার্ভার স্টেশনগুলো উপরের দিকে বাড়িয়ে সেখানেই ইভিএম রাখার। আর নতুন প্রকল্প নেয়ার আগে প্রতি ‍উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১৫০টি করে, জেলা নির্বাচন অফিসে এক হাজার করে এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৫’শ করে মোট এক লাখ ৩৬ হাজার ২’শ ইভিএম সংরক্ষণ করা হবে।
 
এইচএস/আরআই

আরও পড়ুন