• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ০৬:৪৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ০৬:৫৪ পিএম

বাঁশ নিয়ে এক যুগ গবেষণার পর সফল গাইবান্ধার মুক্তিযোদ্ধা

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
বাঁশ নিয়ে এক যুগ গবেষণার পর সফল গাইবান্ধার মুক্তিযোদ্ধা
একটি বাঁশ থেকে কাটিং করে এ রকম ৪০-৫০টি চারা করা সম্ভব  -  ছবি : জাগরণ

গাইবান্ধার কৃষি গবেষক ও মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাঁশের দ্রুত বংশবৃদ্ধি নিয়ে ১২ বছরের গবেষণায় সফল হয়েছেন। এখন পরিত্যক্ত অনাবাদি জমিতে কাটিং পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। ১টি বাঁশ থেকে কাটিং করে ৪০-৫০টি বাঁশঝাড় করার স্বপ্ন অবশেষে সফল হলো।

এখন দেশে বাঁশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করাও সম্ভব বলে অভিমত এই মুক্তিযোদ্ধার। তবে এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে সরকারের শুভদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি। সচেতন মহল তার এ উদ্ভাবনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছে।

এ সফলতার পর তিনি গাইবান্ধার মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন।

তিস্তা নদীবেষ্টিত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা। উপজেলায় আছে বাঁশের ব্যাপক চাহিদা। এ চাহিদা কাজে লাগাতে গিয়ে সুন্দরগঞ্জ আসনের প্রয়াত সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বাপ-দাদার শেখানো আদি পদ্ধতিতে শিকড়সহ বাঁশের মোতা বা চারা থেকে বাঁশ চাষ করার চেষ্টা করেন।

কয়েক মাসেও সফল হতে পারেননি তিনি। কিছুদিন পর বিভিন্ন সূত্রে জানার পর নজরুল ইসলামের পরামর্শে একসাথে ১২ বিঘা জমিতে বাঁশ চাষ শুরু করেন।

টবে লাগানো বাঁশের চারা হাতে কৃষি গবেষক ও মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম - ছবি : জাগরণ  

জানা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার উল্ল্যাপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম। যখন তার দাদার দাফন-কাফনে বাঁশের প্রয়োজন হয়; তখন পাড়া-পড়শির কাছে যেতে হয়। তখন থেকে বাঁশের দ্রুত বংশবিস্তার নিয়ে চিন্তা করেন তিনি।

১৯৬৮ সালে ছাত্রজীবনে শুরু করেন বাঁশের বংশবৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা। কৃষিতে ডিপ্লোমা করে কর্মজীবনে সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন।

দীর্ঘ ১২ বছর গবেষণার পর উদ্ভাবন করেছেন কাটিং পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ। এ পদ্ধতিতে একটি বাঁশ থেকে ৪০-৫০টির বেশি বাঁশঝাড় করা সম্ভব।

ইতিমধ্যে সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এই পদ্ধতিতে পরিত্যক্ত জমিতে বাঁশ চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনাবাদি জমিতে বাঁশ চাষ করে ৫-৬ বছর পর থেকেই বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন চাষিরা।

শুধু গাইবান্ধা নয়; নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেটসহ অনেক জেলায় বাঁশ চাষের মাধ্যমে সফল হয়েছেন অনেকে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাঁশ চাষে আগ্রহী ব্যক্তিরা ছুটে আসছেন নজরুল ইসলামের কাছে। এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন জাতীয় কৃষি পুরস্কার, ইন্টারন্যাশনাল রোটারি ক্লাব পুরস্কারসহ জেলা-উপজেলার অসংখ্য পুরস্কার।

সুন্দরগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি বলেন, ‘নজরুল ইসলামের পরামর্শে বাঁশের কাটিং দিয়ে খুব কম খরচে একসাথে ১২ বিঘা জমিতে বাঁশ চাষ করেছি। প্রথমে অনেকটা হতাশা থাকলেও এখন বাঁশঝাড় দেখে মনে শান্তি পাই। এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করলে দ্রুত শত শত বাঁশঝাড় করা সম্ভব।’

বাঁশের চারা সংগ্রহ করতে লালমনিরহাট থেকে আসা মিরাজ হোসাইন বলেন, ‘ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে জানতে পারি, বাঁশের বংশবিস্তারে নজরুল ইসলামের উদ্ভাবনের কথা। আমরা তার কাছ থেকে বাঁশের চারা সংগ্রহ করতে এসেছি।’

সাঘাটার বাঁশহাটা গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন সরকার জানান, যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে পরিত্যক্ত তিন বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে এখন বছরে কয়েক লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করছেন।

উদ্ভাবক মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জানান, তিনি গাইবান্ধার মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন নিয়ে এখন গবেষণা করছেন। এছাড়া সৌদি আরবের খেজুর গাছ নিয়েও চিন্তা আছে তার। তিনি সৌদি থেকে উন্নত মানের বারোমাসি খেজুরের চারা সংগ্রহ করে নতুনভাবে গবেষণা করছেন বলে জানান।

কাটিং করে রোপণের পর বাঁশের কচি চারা  -  ছবি : জাগরণ

সাঘাটা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহকারী কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, ‘গাইবান্ধায় এ পদ্ধতিতে ব্যাপক বাঁশ চাষ করে নদীভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা সম্ভব। তার বিভিন্ন গবেষণায় আমরা মুগ্ধ। এ পদ্ধতিসহ বিভিন্ন গবেষণা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

এনআই

আরও পড়ুন