• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯, ১০:৪৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯, ১০:৪৩ এএম

লক্ষ্মীপুরে ৬ মাসে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল চুরি

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুরে ৬ মাসে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল চুরি

লক্ষ্মীপুর জেলায় মোটরসাইকেল চুরির হিড়িক পড়েছে। এর মধ্যে সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় প্রায় ৬ মাসে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল চুরি হয়। এক দিনেই ৪টিও চুরি হয়েছে। তবে চুরির ঘটনায় মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনকে অবহিত করছেন না অনেক মোটরসাইল মালিক। চুরি থেকে বাদ পড়ছে না সাংবাদিক, গোয়েন্দা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মোটরসাইকেলও। সর্বশেষ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মোটরসাইকেল চুরি হয়। সুযোগ বুঝে মুহুর্তের মধ্যেই মোটরসাইকেল নিয়ে হাওয়া হয়ে যায় চোরেরা।

এদিকে, চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এতেও চুরি না থামায় আতঙ্কে রয়েছে মোটরসাইকেল মালিকরা।

অন্যদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় একাধিক বক্তা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগীরা জানায়, শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের মটকা মসজিদ এলাকা থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ইমতিয়াজের মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে রায়পুরের রাখালিয়ায় বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) দুই কর্মকর্তার দুটি ও বাবুরহাটে এক ব্যক্তির একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর ফেনীর দাগনভূঞা বাজারে অভিযান চালিয়ে এনজিও কর্মকর্তাদের দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জেলা পুলিশ বিভাগ জানায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেনী থেকে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- লক্ষ্মীপুর সদরের দালালবাজারের খন্দকারপুর এলাকার মির্জা মুরাদ হাওলাদার এবং রায়পুরের সোনাপুরের রাখালিয়া গ্রামের মো. তুহিন। একই দিন (৬ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ আসামি পিয়াস পাঠান ও ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেন। এ ছাড়া রামগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরিসহ একাধিক মামলার আসামি এমরান হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে গতকাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। এর মধ্যে সদরের কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবদুর জাহের, চর ফলকন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আফসার উদ্দিন, চর কালকিনির সচিব প্রাণ গোবিন্দ দাস, রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফিরোজ আলম, লক্ষ্মীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ডা. সালাহ উদ্দিন শরিফ, ইউনুছ হাওলাদার রুপম, আশরাফ হোসেন, ঠিকাদার  আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ফিল্ড অফিসার রাজিব ভৌমিক, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোডের কর্মচারী শহিদুল ইসলাম রনি, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জয়, রায়পুরের জাতীয় পার্টি নেতা ইলিয়াস কবির, মনোয়ার আহমেদ প্রান্ত, ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী মো. খোকন ও পৌরসভার কর্মকর্তা আনিছুল হক ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মো. আবদুর রহিমের মোটরসাইকেল রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরের দল মোটরসাইকেল চুরি করে আসছে। তারা রাতে বাড়ির কলাপসিবল গেট কেটে ভেতরে ঢুকে মোটরসাইকেলে দেওয়া তালা ভেঙে, অনেক সময় কেটে মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। অনেক সময় দিনে বিভিন্ন মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি হয়।

রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফিরোজ আলম দৈনিক জাগরণকে বলেন, এই মাসে আমার মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে। চুরির ঘটনাটি আমি থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছি।  

লক্ষ্মীপুর জেলা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ৬ মাসে আমাদের তিনজন সচিব ও একজনের আত্মীয়ের মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। বিষয়টি আমরা থানা-পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ অবস্থায় মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের টেনশনে থাকতে হয়।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়। সংঘবদ্ধ চোরদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কেএসটি

আরও পড়ুন