• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১১:৫৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১১:৫৩ এএম

মসিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে তৈরি হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা
মসিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে তৈরি হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান

নবগঠিত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নগর উন্নয়ন অধিদফতর তৈরি করছে মাস্টারপ্ল্যান। বিলুপ্ত ময়মনসিংহ পৌরসভার জন্য এর আগে তৈরি করা মাস্টারপ্ল্যানকে বেইজ ধরে এটিকে আরও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে নতুন সম্প্রসারিত ১২টি ওয়ার্ডকে এর আওতায় আনা হয়েছে। 

মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে ময়মনসিংহ সিটির জরিপ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন। নয়া এই মাস্টারপ্ল্যানে নগরীর ব্যস্ততম কেন্দ্র বিন্দু থেকে রেললাইন সরিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড অথবা ওভারহেড রেললাইন স্থাপন, একাধিক ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ ও চারলেন সড়ক নির্মাণ, ময়লা আবর্জনার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে নিজস্ব চাহিদার বিদ্যুৎ জেনারেশন, নগরবাসীর বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, নগরীর প্রতিটি সড়কে বাতির ব্যবস্থাকরণসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সড়ক যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনে আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ লাইন স্থাপন, খাল খনন, চিড়িয়াখানাসহ শিশু পার্ক নির্মাণ, পাটগুদাম মোড় থেকে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনাল অন্যত্র স্থানান্তর এবং ২০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ময়মনসিংহ নগর ভবন নির্মাণ কাজ রাখা হয়েছে। 
এসবের বাইরে থাকছে নগরীর বিউটিফিকেশনসহ নগরবাসীর বিনোদনে পরিবেশবান্ধব ছায়াশীতল পরিবেশের নানা উন্নয়ন কাজ। 

আগামী এক মাসের মধ্যে নগর উন্নয়ন অধিদফতর মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া চূড়ান্ত করার পর ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে এ নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য। এসময়ে এর সংযোজন ও বিয়োজন শেষে গেজেট প্রকাশের জন্য পাঠানো হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। আশা করা হচ্ছে আগামী ৩/৪ মাসের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যানের গেজেট প্রকাশ করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবেলাকে মাথায় রেখে নগর উন্নয়ন অধিদফতর নয়া এই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে বলে জানান ময়মনসিংহ সিটির নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস।

ময়মনসিংহের সিটি মেয়র ইকারমুল হক টিটু জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন। আর পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে এই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে ময়মনসিংহ সিটির চিরচেনা চেহারা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি এলাকায় অভাবনীয় যে দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে তারই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ সিটির উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে ময়মনসিংহ সিটি মেয়র নানা শ্রেণী পেশার নাগরিকদের আন্তরিক সহাযোগিতা চেয়েছেন। মাস্টারপ্ল্যান গেজেট হওয়ার আগ পর্যন্ত নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের সড়কে বাতির ব্যবস্থাকরণসহ চলমান উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে আড়াই হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল (ডিপিপি) জমা দেয়া হয়েছে। 

প্রস্তাবিত মাস্টারপ্লানে থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতেই এই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে বলে জানান মেয়র। ইতোমধ্যে ইউজিপ-২সহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় নগরীর বেশ কয়েকটি সড়ক উন্নয়নসহ আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ হয়েছে। আরসিসি প্রযুক্তির সড়ক উন্নয়সহ আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ লাইন স্থাপনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বদলে দিয়েছে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকাসমূহে জলাবদ্ধতার চিরচেনা ভোগান্তির চেহারা। আরসিসি সড়কের মাঝখান বরাবর মাটির নিচ দিয়ে বড় আকৃতির পাইপ বসিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদে। ফলে নগরীর নতুন বাজার, রামবাবু রোড, সিকেঘোষ রোড, দুর্গাবাড়ি রোড, গাঙিনাপাড়, ষ্টেশন রোড, মহারাজা রোড, স্বদেশী বাজার, মেছুয়া বাজার, ছোট বাজার ও বড় বাজারসহ বাণিজ্যিক এলাকাসমূহের পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় নগরীর রেল লাইনের উত্তর পূর্বাংশের বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতার দৃশ্যমান কোন ভোগান্তি নেই বললেই চলে। আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ লাইন স্থাপন ও সড়কের দুইপাশে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজের ফলে এসব এলাকার মানুষ চলতি বর্ষা মৌসুম থেকে সুফল পেতে শুরু করেছে। দাবি উঠেছে নগরীর রেল লাইনের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের চরপাড়া, নয়াপাড়া, মাসকান্দা, নওমহল, আকুয়া, কাচিঝুলি, আউটার স্টেডিয়াম, সানকিপাড়া, গুলকিবাড়ি, গোহাইলকান্দি, কাশর আবাসিক এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ লাইন স্থাপনসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের। 

ময়মনসিংহের সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বাণিজ্যিক এলাকার ইতিবাচক সুফল পর্যায়ক্রমে নগরীর সব ওয়ার্ডে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।

ময়মনসিংহের সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, ময়মনসিংহ নগরীর উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান পরিকল্পিত নগরায়ন। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যাশাকে মাথায় রেখে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। নগর উন্নয়ন অধিদফতর ময়মনসিংহ সিটির মাস্টারপ্ল্যান তৈরির জন্য ড্রোনের সাহায্যে একাধিকবার সার্ভে করেছে। আট লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ৯০ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র পাড়ের পৌর সুপার মার্কেট এলাকায় আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর ২০ তলা বিশিষ্ট ময়মনসিংহ নগর ভবন নির্মাণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নগরীর বাদেকল্পা এলাকায় ২৫ একর জমিতে চিড়িয়াখানাসহ শিশু পার্ক নির্মাণ এবং পাটগুদাম রেলব্রিজ থেকে ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ পর্যন্ত ১০ একর জমিতে আলাদা শিশু পার্ক নির্মাণ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়ক বাতি স্থাপন, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ, শ্মশানঘাট উন্নয়ন, পাটগুদাম ব্রীজ মোড় থেকে চায়না মোড়ের সাত একর জমিতে বাসটার্মিনাল স্থানান্তর এবং নগরীর শিকারীকান্দার আমলীতলায় ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ। পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে খাকডহরে ওয়াটার টিট্রমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, চুরখাই, চরজেলখানা, শম্ভুগঞ্জ চায়না মোড়ের ময়লাকান্দা ও খাকডহর বাইপাস এলাকায় বর্জ্যরে ডাম্পিং স্টেশন, এই বর্জ্য থেকে ১০ মে.ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ, ব্রহ্মপুত্র নদের বেড়িবাঁধ বরাবর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে খাকডহর ঘুন্টি পর্যন্ত চারলেন সড়ক নির্মাণ, নগরীর মাঝখান থেকে রেললাইন সরিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দীঘারকান্দা, আকুয়া বাদেকল্পা হয়ে খাকডহর ঘুন্টির সঙ্গে সংযোগ, নগরীর চরপাড়া মোড়, পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, গাঙিনাপাড় ট্রাফিক মোড় ও কাচারি জিরো পয়েন্ট মোড়ে এসকেলেটরসহ ওভারব্রিজ নির্মাণ, চরপাড়া থেকে মালগুদাম হয়ে থানারঘাট এবং চরপাড়া থেকে পাটগুদাম ব্রিজ মোড় পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে মাস্টারপ্ল্যানে। এসবের বাইরে নগরীর ব্যস্ততম প্রাণকেন্দ্র থেকে রেললাইন সরিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড অথবা ওভারহেড রেললাইন স্থাপন,নগরীর ভেতর সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সিকেঘোষ রোড, আরকে মিশন রোড, রামবাবু রোড, গাঙিনপাড়, স্টেশন রোড, সাহেব আলী রোড, গার্লস ক্যাডেট কলেজ রোড, কংগ্রেস জুবলি রোড সম্প্রাসারণ করারও পরিকল্পনা রাখা হয়েছে মাস্টারপ্ল্যানে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী উপসচিব আনোয়ার হোসেন জানান, সিটি কর্পোরেশনের চাহিদামতো নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট প্রকাশের আগে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। নতুন কোন প্রস্তাবনা থাকলে সেটি সংযোজন ও নেতিবাচক কিছু থাকলে সেটি বিযোজন করা হবে।


কেএসটি 

আরও পড়ুন