• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ০১:৫৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ০১:৫৭ পিএম

ডোবা থেকে যুবলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার 

বরগুনা সংবাদদাতা
ডোবা থেকে যুবলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার 

বরগুনার বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামে বাড়ীর একশ গজ দূরে বাগানের মধ্যে একটি ডোবা থেকে সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন হাওলাদারের (৩৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে বামনা থানা পুলিশ। পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ডোবার ভিতর পুতে রাখা হয়েছিল। নিহত ওই যুবলীগ নেতা বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামের রশিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি সাত বছরের এক সন্তানের জনক ছিলেন। 

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাতটায় নিহতের মা রিজিয়া বেগম বাড়ীর পিছনে বাগানের মধ্যে তার ছেলের ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে বামনা থানায় নিয়ে আসে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।  

রিজিয়া বেগম আরো জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার ছেলেকে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাড়ির পিছনে একটি ডোবায় পুতে রাখে। তার ছেলে ইজিবাইক চালক ছিলেন। রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাড়ির সম্মুখে সড়কের পাশে তার ইজিবাইকটির ব্যাটারি চার্জ দিতে আসে। পরে সে আর ঘরে ফেরেনি। সোমবার সকালে তার একটি ট্রিপ নিয়ে ফুলঝুড়ি খেয়াঘাটে যাওয়ার কথা ছিল। সকালে যখন ওই যাত্রীরা তাকে ফোন করে না পায় তখন তার বাবার ফোনে কল দেয়। তারা ঘরে গিয়ে ছেলেকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে। পরে বাড়ির পিছনে একটি বাগানের মধ্যে ডোবার পানিতে ছেলের পায়ের জুতা ভাসতে দেখতে পান তিনি। পরে একটি লাঠি দিয়ে ওই ডোবার ভিতর খুঁজলে তার লাশ ভেসে উঠে। তিনি তাৎক্ষণিক ডাকচিৎকার দিলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরা সেখানে গিয়ে তার লাশ দেখতে পায়। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা পাঠিয়েছে।

নিহত যুবলীগ নেতা রিপন হাওলাদারের ছোট ভাই সেলিম হাওলাদার জানায়, তার চাচা চাঁন মিয়া হাওলাদার, সহিদ হাওলাদার ও সৎভাই ইলিয়াস হাওলাদারের সাথে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় সৎভাই ও চাচাদের আসামি করে আগেই একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় সৎভাই ইলিয়াস হাওলাদার (৪২) কয়েকদিন পূর্বে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বরগুনা জেল হাজতে ছিলেন। পরে গত রোববার সে জামিনে মুক্তি পেয়ে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুম, ধামকী প্রদান করে। এ ঘটনার সাথে তাদের যোগসাজস থাকতে পারে বলে তিনি জানান। ঘটনার দিন রাতে তার বড় ভাই ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দিতে যায়। পরে তিনি ঘরে ফিরছেন কিনা এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। 

বামনা থানার অফিসার ইন চার্জ মো. মাসুদুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বামনা থানায় মামলা হয়েছে।

কেএসটি

আরও পড়ুন