• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯, ০৮:০৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯, ০৮:১০ পিএম

ঘরে বাতি দেওয়ারও কেউ রইল না

উখিয়ায় চার খুনের ঘটনা ঘটাল কারা?

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
উখিয়ায় চার খুনের ঘটনা ঘটাল কারা?
উখিয়ায় একই পরিবারের ৪ নারী-শিশুকে জবাই করে হত্যা - ফাইল ছবি

পরিবার-পরিজনের সুখের আশায় একটু ভালোমতো জীবন কাটানোর লক্ষ্যে রোকেন বড়ুয়া এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কুয়েতে প্রবাসী। কে জানত তার এ সোনার সংসারে হঠাৎ এই দুরবস্থা নেমে আসবে। আজ তার সাজানো সংসারের হাল ধরার কেউ রইল না। সন্ধ্যায় বাড়িতে বাতি জ্বালানোরও কেউ আর নেই। এ মহাকষ্ট জানি না রোকেন কীভাবে সইবেন।

রোকেন বড়ুয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় ‘শান্তিপ্রিয় ভদ্র পরিবার’ হিসেবেই পরিচিত ছিল জানিয়ে রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, ‘ভাইদের মধ্যেও সম্পর্ক ভালো ছিল। কারও সঙ্গে তাদের ঝগড়া বা জটিলতা ছিল বলে আমরা শুনিনি। এ ঘটনায় এলাকার লোকজনও হতবাক।’

উখিয়ার শান্ত, সবুজ গ্রাম পূর্ব রত্না। এ গ্রামে ২-৩ শ পরিবারের বসবাস। সবাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বড়ুয়া সম্প্রদায়ের। কোটবাজার-ভালুকিয়া সড়কের দুই পাশে গ্রামটিতে সহজ-সরল বড়ুয়াদের বসবাস। রাস্তার দক্ষিণে পূর্ব রত্না বৌদ্ধবিহার আর বিহারের সামনে এক-দুই শ গজের মধ্য কুয়েত প্রবাসী রোকেন বড়ুয়াদের বাড়ি। পাশে অপর দুই ভাইয়ের ঘর।

রোকেনের আপন চাচা সুমন্ত বড়ুয়া ড্রাইভার (৬৪)। তিনি বলেন, অনেকের স্বামী বিদেশে থাকে। অনেকের প্রবাসী স্ত্রীকে নিয়ে নানা কথা রটে। কিন্তু রোকেনের স্ত্রী সুন্দরী ও যুবতী হওয়ার পরও এ ধরনের কোনো কথাবার্তা শোনা যায়নি। এমনকি রোকেনের বাড়ির সামনের দরজা প্রায় সময় বন্ধ থাকত। পেছনের দরজা দিয়ে রোকেনের স্ত্রী মিলা ও শাশুড়ি চলাফেরা করত। কোনো পরপুরুষের সাথে মিলাকে নিয়ে কোনো কথা শোনা যায়নি।

পার্শ্ববর্তী মুসলিম গ্রামের আবদুল করিম বলেন, ‘আমরা কোনো দিন শুনিনি রোকেন ও তার স্ত্রী মিলার সাথে গ্রাম বা পাড়া-প্রতিবেশীদের কোনো ঝগড়া বা বিরোধের কথা। রামু উপজেলা থেকে রোকেন বিয়ে করলেও তার স্ত্রী ছিল খুবই ভদ্র, শালীন ও মার্জিত। নেহাত প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে যেত না। তাদের সাথে কারো শত্রুতায় এ ঘটনা ঘটেছে, এটা কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না।’

প্রতিবেশী দুলাল বড়ুয়া জানান, গত ২-৩ দিন আগে মিলাদের ভিটার দুটো গাছ কাটে। ভিন্ন এলাকার কয়েকজন লোক গাছ কাটে। তারা মিলাদের বাড়িতেও আসা-যাওয়া করেছে। তিনি জানান, তারাও সন্দেহের বাইরে নয়। হিমু বড়ুয়া বলেন, মিলা বেশ সুন্দরী ও যুবতী। হয়তো বখাটে দুর্বৃত্তরা তার ওপর কুনজর দিয়েছিল। তারই জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হতে পারে। তাছাড়া খুনিদের মধ্যে হয়তো এমন কেউ ছিল, যাকে বা যাদের শিশুরা ও বৃদ্ধা চিনে ফেলেছিল। না হয় অবুঝ শিশুদের ও বৃদ্ধাকে কেন খুন করল।

প্রতিবেশী ভুট্টো বড়ুয়া ও প্রবাসী রোকেন বড়ুয়ার বড় ভাই রবিসন বড়ুয়া বলেন, তারা দুজনেই রাত দুটোর দিকে দোকানে টিভি দেখে বাড়ি ফেরেন। রাত ১২টার দিকে তিনজন লোক মোটরসাইকেল নিয়ে উচ্চস্বরে চিল্লাচিল্লি করে কয়েকবার রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। এ ঘটনায় রবিসনের একমাত্র মেয়ে সনি বড়ুয়াও খুনের শিকার হয়।

জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এলাবাসীর প্রশ্ন, প্রায় সবাই বলছে প্রবাসী রোকেন ও স্ত্রী মিলা দম্পতির সাথে কারো কোনো বিবাদ নেই, তবে কেন এ হত্যাকাণ্ড?

এনআই

আরও পড়ুন