• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ১০:০০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ৯, ২০১৯, ১০:০০ এএম

আগাছা কাশফুল এখন অর্থ যোগাচ্ছে কৃষকদের

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
আগাছা কাশফুল এখন অর্থ যোগাচ্ছে কৃষকদের

মাঠের পতিত জমিতে আর বনেবাদাড়ে অযত্নে জন্মে কাশফুল। শরতের সাদা মেঘের সাথে মিতালী করে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে শোভা বাড়ায় এই কাশফুল। কৃষকের কোন আর্থিক লাভ দিতে ব্যর্থ হলেও শরতের শুভ্রতা কবি ও সাধারণ মানুষের মনে খোরাক জোগায়। তবে তা অনাদর আর অবহেলায় মাঠেই শুকিয়ে যায়। কিছু কিছু দরিদ্র মানুষ জ্বালানি হিসাবে, কেউবা আবার ঘরের ছাউনিতে ব্যবহারের জন্য মাঠ থেকে কুড়িয়ে আনে। ক্ষেতের আগছা হিসাবে বিবেচিত কাশফুল কেউ কেটে নিয়ে গেলে খুশিই হন কৃষক। কিন্ত– হঠাৎ করেই যেন সবার সে ধ্যান-ধারণা পাল্টে যাচ্ছে। কাশফুল এখন রীতিমত কৌলিণ্য পেয়েছে, পেয়েছে আর্থিক স্বীকৃতি। তাই চাষিরা, বিশেষ করে পানচাষিরা এখন মূল্য দিয়েই কিনছেন এক সময়ের মূল্যহীন কাশফুল তাদের পানবরজে ব্যবহারের জন্য।

কাশফুল চাষে খরচ নেই বিধায় ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের বেশ কিছু কৃষক তাদের অনাবাদি ক্ষেতে কাঁশফুলের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল হক, পাইকপাড়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন, বারপাখিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনসহ এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক কাঁশফুলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন।  

কাঁশফুল চাষ করা কৃষকরা জানান, একসময়ে গ্রাম এলাকায় মাটির দেয়ালের ঘর ছিল। এ ঘরগুলোতে ছাউনির জন্য খড় ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এলাকার অনেক বসতঘরই পর্যায়ক্রমে ইটের পাকা ঘরে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এখানে ছাউনিতে ব্যবহার করা হচ্ছে টিন বা পাকা পাকা ছাঁদ। ফলে বসতঘরে এখনকার দিনে খড় লাগে না। কিন্তু লাভজনক হওয়ায় বেড়ে গেছে পানচাষ। পানচাষিদের এ বরজে খড় ও কাঁশগাছ ব্যবহার হচ্ছে ছাউনি হিসাবে। 

এলাকার কৃষকরা জানান, কোন কোন ফসলি জমিতে বিচ্ছিন্নভাবে আগাছা হিসেবে খড় ও কাশফুলের ঝাড় গজিয়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে কৃষকেরা ফসলি ক্ষেতের আগাছা দমনের সময়ে সেগুলো কেটে ফেললেও অল্পদিনে ফসলের মধ্যে আবার তা গজিয়ে ওঠে। অনেক জমিতে দমন করা সম্ভব হলেও শত চেষ্টা করেও কিছু কিছু জমিতে গজিয়ে উঠা ঝাড় ও খড় দমন করতে কৃষকেরা ব্যর্থ হন। কেননা এ কাঁশগাছের মূল চলে যায় মাটির গভিরে। তখন তারা বাধ্য হন ওই জমিটি ঝাঁড় বা কাঁশগাছের জন্য পতিত ফেলে রাখতে। 

কালিগঞ্জের নিয়ামতপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হক জানান, ফসলি ক্ষেতে জন্মানো ঝাড়গাছই হলো কাঁশগাছ। বেশ কয়েকবার কোঁদাল দিয়ে গভীর করে খুঁড়ে মূল উঠিয়ে দিয়েছেন কিন্তু কিছুদিন পরেই আবার আগাছা হিসেবে দেখা দিত। একপর্যায়ে দমনে ব্যর্থ হয়ে ক্ষেতটিতে অন্য ফসল চাষ বন্ধ করে দেন। তখন থেকেই জমিটিতে চাষ হচ্ছে কাঁশগাছের। যা প্রতিবছর বিক্রি করে বেশ পয়সা পাচ্ছেন। তিনি বলেন গত বছরও এ জমির কাশঝাড় ৪৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।  

উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক সাখাওয়াত হোসেন ও বারপাখিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, কাঁশগাছ চাষে তেমন কোন খরচ নেই বললেই চলে। বর্ষা মৌসুমে এ গাছের চারা গজিয়ে উঠলে গাছ শক্ত রাখতে সামান্য ট্রিপল সুপার ফসফেটের সাথে কিছু মিউরিয়েট আব পটাশ দিতে হয়। আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তা দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। এরপর শীত মৌসুমে জমি থেকে কেটে ভাল করে শুকিয়ে রাখলে ক্ষেত থেকেই পানবরজ মালিকেরা কিনে নিয়ে যান। তারা জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে এ জমিতে অন্য কোন ফসলের চাষ করা হয় না। জমিটি আলাদাভাবে রেখে দেয়া হয়েছে কাশ ও খড়ের জনধান, গম, পাট বাঅন্য ফসল চাষ করলে উৎপাদন খরচ বাদে যে লাভ পাওয়া যেতো কাঁশগাছ চাষে কৃষকরা তার চেয়ে অনেক বেশি লাভ পাচ্ছেন। গতবছরও এ জমির কাঁশগাছ ও খড় বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। এ বছর আরো বেশি টাকা আসবে বলে তিনি আশা করছেন তারা। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, কৃষকদের ক্ষেতের কাঁশফুল ঝাড় এবং গজিয়ে ওঠা খড় বা ছন পানবরজের পানের পট বাধতে ব্যবহার হয়ে থাকে। কৃষকদের অনেক অনাবাদি জমিতে আজ কাঁশফুল ও খড়ের চাষ করে পানবরজ মালিকদের কাছে বিক্রি করে বেশ পয়সা পাচ্ছেন যা কৃষকদের জন্য বেশ লাভজনক। একসময়ের অবাঞ্চিত কাশফুল কৃষকের আর্থ-ড়সামাজিক উন্নয়নের ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে বলে মনে করেন ওই কৃষি কর্মকর্তা।

কেএসটি

আরও পড়ুন

Islami Bank