• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০১৯, ০৭:১৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১৮, ২০১৯, ০৭:১৬ পিএম

যুবককে গাছে বেঁধে আ’লীগ নেতার তাণ্ডব

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
যুবককে গাছে বেঁধে আ’লীগ নেতার তাণ্ডব
যুবককে গাছে বেঁধে বসতঘরে তাণ্ডব চালান আ’লীগ নেতা ও তার সহযোগীরা  -  ছবি : জাগরণ

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে তার বাড়িতে তাণ্ডব চালান আওয়ামী লীগের এক নেতা। ওই নেতার নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন অতর্কিত হামলা চালিয়ে ওই যুবকের বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।

এ সময় স্থানীয় এক যুবক জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেয়ায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন বাকড়া গ্রামের আশরাফুল, মোস্তাফিজুর, নজরুল, জলিল, ফিরোজ ও সেলিম।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঘণ্টাব্যাপী কেড়াগাছি ইউনিয়নের বাকসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কেড়াগাছি ইউনিয়নের স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাকসা গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন অতর্কিত হামলা চালায়। আমার ছেলে ওসমান গণি, ছেলের বউ আসমত আরা ও আমার স্ত্রী মোমেনাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে তারা নির্যাতন চালায় ও বসতঘর ভাঙচুর শুরু করে। স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দিতে এলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তারা সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে।’

আজিজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমার শ্বশুর ২২ শতক জমি আমার স্ত্রীর নামে লিখে দেন। তিন বছর আগে সেই জমিতে ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছি। এই জমি আমার শ্বশুরের ভাতিজারা দাবি করে। মূলত এটা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন। এই দ্বন্দ্বের সুযোগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর আমার ছেলের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দিতে অস্বীকার করি। পরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেয় গফুর। টাকা নেয়ার পরই তার নেতৃত্বে তারা এ তাণ্ডব চালায়।’

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কেড়াগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মারুফ হোসেন জানান, অতর্কিত এ হামলার পর স্থানীয় এক যুবক জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেয়। তারপর কলারোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৬ জনকে আটক করে।

ঘটনার বিষয়ে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মনির উল গীয়াস বলেন, ভাঙচুর চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে থানায় কেউ কল দেয়নি। জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের একটি টিম পৌঁছায়। ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ও অজ্ঞাতনামা ১২-১৩ জনের নামে থানায় এজাহার দিয়েছেন আজিজুল ইসলাম। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনআই

আরও পড়ুন