• ঢাকা
  • বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০১৯, ০৬:১২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৮, ২০১৯, ০৬:১২ পিএম

নড়াইলে মধ্যযুগীয় কায়দায় যুবককে পেটাল পুলিশ

নড়াইল সংবাদদাতা
নড়াইলে মধ্যযুগীয় কায়দায় যুবককে পেটাল পুলিশ
পুলিশি নির্যাতনের শিকার শিহাব মল্লিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন  -  ছবি : জাগরণ

নড়াইলের লোহাগড়া থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামি শিহাব মল্লিক (২৮) নামের এক যুবককে চোখ বেঁধে ও পেছন হাতকড়া পরিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি লোহাগড়া পৌর এলাকার গোপীনাথপুর গ্রামের এনামুল মল্লিকের ছেলে।

পুলিশের নির্যাতনের শিকার শিহাব মল্লিক লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ অভিযোগ লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুস সালাম সিদ্দিকের বিরুদ্ধে।

লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শিহাব মল্লিক জানান, ২ নভেম্বর (শনিবার) সকালে আর্থিক ও পারিবারিক বিরোধে ফুফাতো ভাই মনিরুল ও খাইরুল মল্লিক যৌথভাবে তার বাবা এনামুল মল্লিকের ওপর চড়াও হন। বিষয়টি নিয়ে তাদের বড় ভাই বদরুল মল্লিকের সাথে শিহাব মল্লিকের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শিহাব বদরুল মল্লিককে মারধর করেন। এ ঘটনায় বদরুল মল্লিকের ছোট ভাই মনিরুল মল্লিক বাদী হয়ে শিহাব ও তার মা বিউটি বেগমকে আসামি করে ওইদিন দুপুরে লোহাগড়া থানায় মামলা করেন।

মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুস সালাম সিদ্দিককে। তিনি পরদিন ৩ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে শিহাব মল্লিককে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে রাখেন। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন ছুটে যান থানায়। পরিবারের লোকজনকে দেখা করা ও রাতের খাবার দিতে দেননি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

শিহাব মল্লিক আরও অভিযোগ করেন, গত ৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টা ও ৪ নভেম্বর সকালে এসআই সিদ্দিক তাকে পেছনে হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে দফায় দফায় নির্যাতন করেন। নির্যাতনের কারণে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শিহাবকে কিছুটা সুস্থ করে ৪ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। আদালত চত্বরে তার পরিবারের কাছে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন শিহাব। ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার শিহাব জামিনে মুক্ত হলে ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বাদীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শিহাবের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত এসআই সিদ্দিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যেদিন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, পরের দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন পুলিশ হেফাজতে শিহাব মল্লিককে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এনআই

আরও পড়ুন