• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০১৯, ১০:০৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৮, ২০১৯, ১০:১২ পিএম

আঘাত হানতে পারে শনিবার, মোংলা-পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭, চট্টগ্রামে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত, নৌযান বন্ধ ঘোষণা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুত উপকূলীয় জেলাগুলো

মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুত উপকূলীয় জেলাগুলো

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর শক্তি আরো বেড়েছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে উপকূলীয় জেলাগুলো।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ভয়াবহ আকারে প্রভাব ফেলায় সারাদেশে নৌ-চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান।

দেশের সাতটি জেলা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অতিঝুঁকিতে আছে। জেলাগুলো হলো খুলনা, সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা। ভোলায় ৬৬৮টি, বরগুনায় ৫০৯টি, বাগেরহাটে ২৩৪টি, খুলনায় ৩৩৮টি, সাতক্ষীরায় ২৭০টি, পটুয়াখালীতে ৪০৩টি ও ব‌রিশালে ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল' চলাকালীন ও ঘূর্ণিঝড় শেষে উদ্ধারকাজসহ যেকোনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত আছে কোস্ট গার্ড। জরুরি সহায়তার জন্য নিম্নোক্ত ফোন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে - বরিশাল বিভাগ ০১৭৬৬৬৯০৬০৩, খুলনা বিভাগ ০১৭৬৬৬৯০৩৮৩, চট্টগ্রাম বিভাগ ০১৭৬৬৬৯০১৫৩ এবং অতিরিক্ত ০১৭৬৬৬৯০০৩৩।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে শনিবার

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ খুলনা ও বরিশালের দিকে ধেয়ে আসছে। খুলনা ও বরিশাল এলাকা থেকে এখন ৬৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের কোনো এক সময় আঘাত হানতে পারে। 

প্রতিমন্ত্রী জানান, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা ও পিরোজপুরের কিছু কিছু এলাকায় আঘাত হানতে পারে। তবে তা মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেতের পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। এর ফলে বন্দরে অবস্থানরত সকল দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য ওঠা-নামার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বন্ধ রয়েছে বন্দরে জাহাজ আগমন ও নিগর্মনও। ঘূর্ণিঝড় মনিটরিংয়ের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ, মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন পৃথক কন্ট্রোরুম খুলেছে। মোংলায় ৮৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন শহর জুড়ে বিপদ সংকেতের বার্তা প্রচারের পাশাপাশি জনসাধারণকে নিকটতম আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন।

বাগেরহাটে ২৩৪ সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত

বাগেরহাট সংবাদদাতা জানান, সুন্দরবন উপকূলে ধেয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এর প্রভাবে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলকে মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে জেলার সকল ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সব উপজেলায় একটি করে মেডিকেল টিম ও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলামকে জেলার ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

দুবলার চরের রাস মেলা স্থগিত

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান,, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দুবলার চরের রাস মেলা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত দুবলার চরে রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। অপরদিকে দুবলার চর থেকে শুঁটকির জেলেদের নিরাপদে ফিরে আনারও উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ১ নভেম্বর থেকে দুবলার চরে শুরু হয়েছে শুঁটকি মৌসুম। এ মৌসুমকে ঘিরে সেখানে অবস্থান করছে প্রায় ১০ সহস্রাধিক জেলে।

ভোলায় প্রস্তুত ১৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবী

ভোলা সংবাদদাতা জানান, ভোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বুলবুল মোকাবিলায় জেলায় ৬৬৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ৯২টি মেডিকেল টিম। এছাড়া জেলা সদরসহ ৭ উপজেলায় ৮টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে উপকূলে চলছে রেড ক্রিসেন্ট, সিপিপি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রচারণা। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা বিষয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে। মজুদ রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী।

খুলনায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার নির্দেশ

খুলনা সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষতি মোকাবিলায় খুলনা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবয়ন অফিস, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসনসহ সকল সরকারি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাদেরকে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে সার্বিক বিষয় মনিটরিং করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গোপসাগর সংশ্লিষ্ট খুলনার দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা এলাকার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া নারী, শিশুরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার সম্ভাব্য সময়ের আগেই যাতে আশ্রয় কেন্দ্রে নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীদের মাইকিং করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এলাকার মসজিদের মাইকে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য প্রতিনিয়ত ঘোষণা দেয়ার কথাও বলা হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিশেষ সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।

বরগুনায় ৫০৯ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

বরগুনা সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় বরগুনায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সভা করেছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বরগুনায় ৩৪১টি সাইক্লোন শেল্টারসহ ৫০৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। যেখানে ৫ লক্ষাধিক লোক আশ্রয় নিতে পারবে। পর্যাপ্ত খাবার মজুদ আছে। বরগুনার কমিউনিটি রেডিও লোকবেতার ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচার চালাবে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপজেলা টিম লিডার জাকির হোসেন মিরাজ জানিয়েছেন, জেলায় ৬ হাজার ৩৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে রয়েছেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ব্রহ্ম জানিয়েছেন, জেলার ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝূঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, বরগুনা থেকে সকল রুটের নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে। বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বেশির ভাগ ট্রলারই পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরে ফিরে এসেছে। বঙ্গোপসাগরে যারা ছিল, তারাও ট্রলার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছে।

সাতক্ষীরায় প্রস্তুত ২৭০ আশ্রয়কেন্দ্র

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল'-এর সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র দুর্যোগে আক্রান্ত লোকদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটির সভায় এসব তথ্য জানা গেছে। জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে স্ব স্ব এলাকায় মাইকিং করে জনগণকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন নদীখালে থাকা নৌযানগুলোকে উপকূলে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে ২৭০টি আশ্রয়শিবির প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১২৫২টি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ফাঁকা করে রাখা হয়েছে। শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার জনগণকে শনিবার বেলা ১১টার মধ্যে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পটুয়াখালীতে ৪০৩ সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত

পটুয়াখালী সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক দরবার হলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ৪০৩টি সাইক্লোন শেল্টার। আপৎকালীন সময়ে শুকনো খাবারসহ ১০০ মেট্রিক টন চাল, ৩৫০০ কম্বল, ১৬৬ বান্ডিল ঢেউটিন এবং নগদ ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বরিশালে প্রস্তুত ২৩২ সাইক্লোন শেল্টার

বরিশাল সংবাদদাতা জানান, ব‌রিশা‌লে ঘূ‌র্ণিঝড় বুলবুলের মো‌কাবিলায় জেলা দু‌র্যোগ ও ব্যবস্থাপনা ক‌মি‌টি জরুরি সভা ক‌রে‌ছে, খোলা হ‌য়ে‌ছে এক‌টি ক‌ন্ট্রোল রুম। শুক্রবার (৮ ন‌ভেম্বর) বেলা সা‌ড়ে ১১টায় ব‌রিশাল জেলা প্রশাস‌কের স‌ম্মেলন ক‌ক্ষে এই সভা অনু‌ষ্ঠিত হয়। সভায় বি‌ভিন্ন সরকা‌রি ও বেসরকা‌রি দফতরের কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সংগঠ‌নের প্রতি‌নি‌ধিরা উপ‌স্থিত ছি‌লেন। সভায় জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, ব‌রিশা‌ল জেলায় ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টার কেন্দ্র প্রস্তুত র‌য়ে‌ছে। এছাড়া প্রয়োজনে বি‌ভিন্ন বিদ্যালয়ের ভবন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে। ‌সি‌পি‌পি, রে‌ড ‌ক্রি‌সেন্টসহ বি‌ভিন্ন বেসরকা‌রি প্রতিষ্ঠা‌নের স্বেচ্ছা‌সেবকরা প্রস্তুত র‌য়ে‌ছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা‌হিনী, ফায়ার সা‌র্ভিস ও রোভার স্কাউটের সদস্যরাও যেকোনো ধর‌নের সহায়তা কর‌বেন।

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে ১২০০ পর্যটক

টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এর ফলে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) এ আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনে প্রায় ১২০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। তবে তারা নিরাপদ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ।

উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় রোহিঙ্গা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছুদ্দৌজা (উপসচিব) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রেডক্রস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দমকল বাহিনীসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ভলেন্টিয়ার প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল নিয়ে শুক্রবার সকালে ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। ক্যাম্পের মসজিদে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এতে এনজিওগুলো তাদের সহযোগিতা করছে।

নোয়াখালীতে ৩৪৫ আশ্রয়কেন্দ্র, ৬৫০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত 

নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকে জেলার পুরো আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে ৩৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ও সাড়ে ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটির এক জরুরি সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতিটি উপজেলায় ২০০ প্যাকেট করে শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, এছাড়াও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার প্রস্তুত আছে।

ফেনীতে ৭৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত, বিপদ সংকেত ৪

ফেনী সংবাদদাতা জানান, ফেনীতে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় ৭৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ প্রশমনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেনীর সার্কিট হাউসে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ, স্বাস্থ্য, পানি উন্নয়ন, ত্রাণ, কৃষি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ফেনী জেলা প্রশাসক জানান, সোনাগাজীর উপকূলীয় এলাকায় তিনটি মেডিক্যাল টিমসহ জেলায় মোট ৭৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় খাবার স্যালাইন, ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল, ৬০০ মেট্রিক টন গম, চিড়া, মুড়ি গুড়সহ বিশুদ্ধ পানির মজুদ রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে রেড ক্রিসেন্ট, স্বেচ্ছাসেবক, সিপিবি, রোভার, আনসার বিডিপির সদস্যরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় উপকূলীয় এলাকার মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি শনিবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে। ফেনী উপকূলীয় অঞ্চল সোনাগাজীতে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এনআই

আরও পড়ুন