• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ১০:০১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ১০:০১ পিএম

বঙ্গোপসাগর থেকে মালয়েশিয়াগামী ১২২ রোহিঙ্গা উদ্ধার

শাহীন শাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
বঙ্গোপসাগর থেকে মালয়েশিয়াগামী ১২২ রোহিঙ্গা উদ্ধার
বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধারকৃত ১২২ রোহিঙ্গা  -  ছবি : জাগরণ

সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে মাঝি-মাল্লাসহ ১২২ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এর মধ্যে শিশু ১৫ জন ও ৫৯ জন নারী। উদ্ধারকৃতরা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তারা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে ট্রলারে ওঠে বলে ভিকটিমরা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে সেন্টমার্টিনের অদূরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে তাদের আটক করা হয়।

জানা যায়, টেকনাফ থেকে গত ১২ নভেম্বর একটি ফিশিং ট্রলার দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। যাত্রাকালে সেন্টমার্টিন থেকে ৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম সাগরে ট্রলারটি বিকল হয়ে ভাসতে থাকে। স্থানীয় জেলেরা ভাসমান ট্রলারটি দেখতে পেয়ে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডকে খবর দেয়। পরে কোস্টগার্ডের জওয়ানরা মাঝি-মাল্লাসহ ১২২ জন রোহিঙ্গা ও ট্রলারটি উদ্ধার করে রাত ৭টায় টেকনাফে নিয়ে আসে। এর মধ্যে শিশু ১৫ জন ও ৫৯ জন নারী রয়েছে।

মালয়েশিয়াগামী ভিকটিম বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আতা উল্লাহ জানান, বাংলাদেশে চলতে-ফিরতে কষ্ট হচ্ছে, তাই দালালের মাধ্যমে ট্রলার করে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছি। গত মঙ্গলবার টেকনাফের রাজারছড়া ঘাট থেকে আরিফ আলী ও নুরুল আমিন নামের দুই ব্যক্তির মাধ্যমে ফিশিং বোট নিয়ে ট্রলারে উঠি।

বালুখালী সি-ব্লকের মো. আয়াছ (১৯) জানান, ট্রলারযোগে সাগরপথে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ধরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। নগদে ৩০ হাজার টাকা ও বাকি টাকা মালয়েশিয়ার উপকূলে পৌঁছালে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু পথে ট্রলার বিকল হয়ে গেলে কোস্টগার্ড আমাদের উদ্ধার করে।

আফিয়া বেগম (১৫) বলেন, মালয়েশিয়ায় বউ হয়ে যাচ্ছি। দালালের মাধ্যমে দুই দিন ধরে ট্রলারে উঠেছি। এ অবস্থায় কোস্টগার্ড আমাদের আটক করেছে।

রশিদ আহমদের কন্যা সাবেকুন্নাহার (১৮) জানান, বাংলাদেশে আমার কেউ নেই। স্বামী মালয়েশিয়ায় রয়েছে। পাসপোর্ট করতে কড়াকড়ি হওয়ায় দালালের মাধ্যমে সাগরপথে আমাকে নিয়ে যাচ্ছে।

কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানা বলেন, বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার বিকল হয়ে ভাসমানের খবর পেয়ে উদ্ধার করতে যায়। ওই ট্রলারে মাঝি-মাল্লাসহ ১২২ জন রোহিঙ্গা রয়েছে। পরে তাদের উদ্ধার করে টেকনাফে নিয়ে আসি। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এনআই
 

আরও পড়ুন