• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৯:৪৯ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৯:৪৯ এএম

স্কুলের ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাথায়

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
স্কুলের ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাথায়

অসংখ্য গানের স্রষ্টা মরমী কবি লালন শাহের জন্মস্থান ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুরে কবির নামে প্রতিষ্ঠিত নাম লালন শাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ৯০ দশকে চার কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ হলেও আজ পর্যন্ত সেটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না। মাঝে মধ্যেই তাদের মাথার উপর ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ে। এলাকার মানুষ বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবনের দাবি করলেও দীর্ঘদিনে তা বাস্তবে রূপ পায়নি।  

এলাকাবাসী জানান, ওই গ্রামের উত্তর প্রান্তে লালন শাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, এটা লালনের গ্রাম। এই গ্রামেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। যে কারণে মরমী কবির নামনুসারে বিদ্যালয়ের নামকরণ। এই গ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার বেশির ভাগই অবহেলিত। 

প্রধান শিক্ষক জানান, ১৯৮৭ সালে এলাকার শিশু শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার কথা ভেবে কিছু শিক্ষানুরাগী হরিশপুরে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে চাটাই দিয়ে ঘেরা একটি কক্ষে ক্লাস শুরু। পরে ১৯৯৪ সালে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে চারকক্ষের একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয় সরকারিভাবে। এর একটি ছোট আর বাকি তিনটি তুলনামূলক বড় কক্ষ। ছোট কক্ষে অফিসের কাজ চলে, বাকি তিনটিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয়। ২০১৩ সালে তাদের বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পাঠদান কার্যক্রম চলছিল।

প্রধান শিক্ষকের মতে, ৬৪ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৪ জন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩২ জন। দুই শিফটে এদের পাঠদান করানো হয়। প্রথম শিফটে শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্লাস আর দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস চলে এই জরাজীর্ণ ভবনে। তিনি জানান, ভবনটি অনেক পুরানো হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে। ছাদ দিয়ে আগে পানিও পড়তো। কিন্তু সম্প্রতি ছাদের উপর জলছাদ করে নিয়েছেন। 

হরিশপুর গ্রামের অভিভাবক রেজাউল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় অভিভাকরা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। তিনি দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ হবে এটা আশা করেন।

হরিনাকুন্ডু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তকর্তা এসএম আব্দুর রহমান জানান, এ বিষয়টি তারা অবগত। এই বিদ্যালয়টি প্রাঙ্গণে নতুন ভবন করার জন্য তাদের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আশা করছেন দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

কেএসটি

আরও পড়ুন