• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৪:৪১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৪:৪১ পিএম

পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না বশেমুরবিপ্রবির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না বশেমুরবিপ্রবির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী
দাবি মানা না হলে পরীক্ষা দেবেন না ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা - ছবি : জাগরণ

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ না করে বিভাগ পরিবর্তনের এক দফা দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ২৭ নভেম্বর সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ১৪ নভেম্বর ছিল ফরম পূরণের শেষ দিন। এ পর্যন্ত  কোনো শিক্ষার্থীই ফরম পূরণ করেননি। ক্ষতির মুখে পড়বেন জেনেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত ইটিই বিভাগের ১৫৮ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষকদের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে ইটিই বিভাগের চাকরির বাজারে বর্তমান অবস্থান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইটিইর বিলুপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে বিভাগ পরিবর্তনপূর্বক এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন শিক্ষকরা। কিন্তু টানা ২৪ দিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

কেন ইটিই বিভাগের রূপান্তর চান এসব যৌক্তিকতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা বলেন, ইইই বিভাগের সিলেবাসের সাথে ইটিই বিভাগের সিলেবাসে ৮০-৯০ ভাগ মিল রয়েছে। তা সত্ত্বেও চাকরিক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীদের।

ইইইর সিলেবাসের সাথে ইটিইর সিলেবাসের সংগতি ও সরকারি-বেসরকারি সব চাকরিতে ইটিই গ্র্যাজুয়েটদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (এপিইসিই) বিভাগকে ইইই বিভাগে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইটিই ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই বিভাগকে ইইইতে রূপান্তরিত করা হয়। অথচ বশেমুরবিপ্রবিতে ২০১৭ সালে এপিইসিই বিভাগকে ইটিই বিভাগে রূপান্তরিত করা হলেও পাঠ্যসূচিতে এপিইসিইর সিলেবাস অনেকটাই অনুরূপ রয়েছে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইটিই বিভাগের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহজাহান বলেন, ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। আমি তাদেরকে ক্লাসে ফেরাতে চেষ্টা করেছি। সারাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ইটিই বিভাগ চলমান রয়েছে। ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি পাস করে চাকরি পায় তাহলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবে না কেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর থেকে একাডেমিক ভবনের শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা।  ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হতে এক দফা দাবি নিয়ে প্রায় ১ মাস ধরে এ আন্দোলন করে আসছেন তারা।

এনআই

আরও পড়ুন