• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০১৯, ১২:৩১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৩০, ২০১৯, ১২:৩১ পিএম

পুঠিয়া পৌর সদরে দুই ইটভাটা, বিপর্যস্ত পরিবেশ

পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা
পুঠিয়া পৌর সদরে দুই ইটভাটা, বিপর্যস্ত পরিবেশ

রাজশাহীর পুঠিয়ায় পৌরসভা সদরে অবৈধভাবে একই স্থানে দুটি ইটভাটা প্রায় ১৭ বছর থেকে দেদারছে চলছে। স্থানীয় এলাকাবাসীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের গাফলতির কারণে ভাটা দুটিতে প্রতিবছর ইট পোড়ানো হচ্ছে। এতে করে ভাটার কালো ধোঁয়া ও তীব্র ঝাঁঝাঁলো গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন এলাকার জনসাধারণ। এলাকাবাসীরা বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তা, পৌর মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, গত ২০০১ সালে ঝলমলিয়া বাজার এলাকার আশরাফ সরদার নামে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে এএসএস নামে একই স্থানে দুটি ইটভাটা গড়ে তুলেছেন। এতে করে ইটভাটা এলাকার আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। 

ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩-এর খসড়া অনুমোদন করা হয় গত পাঁচ বছর পূর্বে। এতে উল্লেখ করা আছে, পৌরসভা সংরক্ষিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বনভূমি, জলাশয়ের আশপাশে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এছাড়া খসড়া আইন অমান্যকারীর সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় ইটভাটায় জ্বালানী হিসাবে কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ, ইটভাটা নির্মাণ এলাকা নির্ধারণ, মাটির ব্যবহার নির্দিষ্ট করা রয়েছে। ইটভাটায় উর্বর মাটি ব্যবহার করলে প্রথমবার দুই বছর কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ভাটা মালিকের ন্যূনতম দুই বছর ও অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ২ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। 

অপরদিকে, ইটভাটার জ্বালানী কয়লার পরির্বতে কাঠ ব্যবহার করা হলে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে ওই প্রভাশালী ব্যক্তি পৌরসভার মধ্যে গত ১৬ বছর যাবত ইট পোড়ান কাজ অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সাজেদুর রহমান বলেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে গত প্রায় ১৭ বছর থেকে আমাদের বিলের পানির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দুটি ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবছর অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের বিলে শত শত বিঘা জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারছি না। এ বিষয়ে আমরা কয়েকবার উপজেলা কৃষি অফিস, পৌর মেয়র, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষক মাসুদুর রহমান বলেন, পৌরসভা সদর ও আবাসিক এলাকার বসবাসকারী সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে এই ইটভাটা চালুর পর তা বন্ধ করতে আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করে ছিলাম। কিন্তু আদালত তখন ভাটা মালিকের পক্ষেই রায় দেন। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পৌরসভা বা আবাসিক এলাকায় কোনো ভাবেই ইটভাটা তৈরি বা ইট পোড়ানোর কোনো বিধান নেই। তিনি আরো বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে আশে পাশের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রতিবছর ফসল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া আমের বাগান, ডাব-নারকেল বাগানসহ বিভিন্ন ফলজ বাগান এখন রোগক্রান্ত হচ্ছে। কৃষকরা প্রতিবছর প্রায় কোটি টাকার অধিক সম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, পৌর সদর ও আবাসিক এলাকায় কিভাবে ইটভাটা চলে তা আমার জানা নেই। ভাটার কোনো ট্রের্ড লাইসেন্সও পৌর সভা দেয়নি। বরং এই ইটভাটার অবৈধ বাহন গুলো মাত্রাতিরিক্ত ইট-মাটি আনা নেয়ার কারণে পৌরসভা এলাকার রাস্তা-ঘাট নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যহানী ও কৃষকদের ব্যাপক ফসলহানী ঘটছে। এ বিষয়ে আমি উপজেলা আইন শৃংখলার মিটিং ও জেলা সমন্নয় কমিটির আলোচনায় কয়েকবার অভিযোগ আকারে উত্থাপন করেছি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ভাটার কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, পৌরসভা সদরের ইটভাটা এবার চালু করেছে বলে শুনেছি। দু’একদিনের মধ্যে ভাটার কাগজপত্র গুলো যাচাই করা হবে। তবে শুনেছি ভাটা মালিক গত কয়েক বছর আগে হাইকোর্টে একটি রিট করেছে। তবে ওই রিটের বিষয়ে সকল কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করে ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেএসটি
 

আরও পড়ুন