• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০৯:১৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০৯:১৪ এএম

কে হচ্ছেন নৌকার কাণ্ডারী

মৌলভীবাজারে ১৪ বছর পর সদর উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারে ১৪ বছর পর সদর উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন

দীর্ঘ ১৪ বছর পর রোববার (২ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে জল্পনা-কল্পনা চলছে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে। কে হচ্ছেন সদর উপজেলায় আগামী দিনের নৌকার কাণ্ডারি এনিয়ে চলছে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও পর্যালোচনা।

দীর্ঘ দিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় তৃণমূল থেকে উঠে আসছে না নতুন নেতৃত্ব। তাই এই সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছেন।
 
তৃণমূল থেকে জেলা ও কেন্দ্রে দৌড়ঝাপ করেছেন পদ প্রত্যাশীরা। এবারের কমিটিতে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠিত হবে এমন আশা করছেন দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতারা। 

দীর্ঘ ১৪ বছর পর উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন হওয়ায় নেতাকর্মীদের প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটা বেড়ে গেছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে উপজেলা জুড়ে বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ছেয়ে গেছে। শহরে ও তৃণমূলের হাটবাজারে সম্মেলনের আসা সম্ভাব্য অতিথিদের পোষ্টার ব্যাপকভাবে সাঁটানো হচ্ছে। এবার ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন তারা। সম্মেলনকে ঘিরে এরইমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। 

জানা যায়, একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ৪১৯ জন। জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একক ক্ষমতা বলে কপশনে রয়েছে ১৫জন ভোটার। এই ১৫ জন ভোটারে থাকতে পারেন তৃণমূলের কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও  শিক্ষক। সব মিলিয়ে মোট ভোটার রয়েছেন ৪৩৪ জন।

সম্মেলনে সভাপতি পদে ২ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুইটি বলয়ে সম্মেলনে জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। আকবর-সুয়েব পরিষদ ও আনকার-সুফিয়ান পরিষদ। এই দুই প্যানেলের প্রার্থীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
 
সভাপতি প্রার্থী আকবর আলী ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের সংগঠক ও মৌলভীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলার ছিলেন। সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন। পৌর কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগেরও সদস্য পদেও আছেন। এবছর তিনি মৌলভীবাজারের সেরা করদাতাও নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিরোধী দুর্নীতিবাজরা দখল করে আছে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে আসছি স্কুল জীবন থেকে। এখনও এই আদর্শে অটুট আছি। সেই পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করতে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে আমি প্রার্থী হয়েছি। 

এই প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আব্দুল মালিক তরফদার সুয়েব ক্লিন ইমেজের সাথে ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে দেশ ও দলের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছেন। সাবেক এই ছাত্রনেতা ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৬ সালে নির্বাচিত হন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি। ১৯৮৬ থেকে ৮৮ সালে ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এরপর যুবলীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও দলকে বা পদের অপব্যবহার করার অভিযোগ নেই। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হিসেবে স্বচ্ছতার সাথে ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলকে সেই ধারায় পরিচালিত করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের হাতকে শক্তিশালি করা প্রয়োজন। তাই এবারের সম্মেলনে তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চায়।

আরেক প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আনকার আহমদ। তিনি বিগত ২৩ বছর যাবৎ তিনি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন। ১৯৯৭ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থেকে তার যাত্রা শুরু। ২০০৫ সালে তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এপর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। 

তিনি বলেন, এতোদিন দলের জন্য কাজ করেছি। বিরোধী দল থেকে শুরু করে সব ধরণের আন্দোলনে দলের নিবেদিত একজন হয়ে কাজ করেছি। আমি কোন টেন্ডারবাজি করিনি, আমি ঠিকাদারী করে অঢেল সম্পদের মালিক হইনি। বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শন, আদর্শ ও রাজনৈতিক নির্দেশনা মেনে আরো সামনের দিকে দলকে নিয়ে যেতে চাই। 

তার প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান। তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দি মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ৫ বারের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের দুই বারের চেয়ারম্যান। 

তিনি জানান, আমি বর্তমানে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে রয়েছি। দলের অভিভাবক সংগঠনের নেতারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। তাই আমাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছেন। আমি আশা করি দল আমার উপর আস্থা রেখে আমাকে আবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিবেন। 

সার্বিক বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান বলেন, আমাদের প্রস্তুতি ভাল আছে। সব মিলিয়ে ৪-৫ জনের নাম শুনা যাচ্ছে। কাউন্সিলিং হবে না সমাঝোতার ভিত্তিতে হবে তা পরিস্থিতিই বলে দেবে।

তিনি জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর যে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে বলেছেন আমরা সেই বিষয়গুলোর প্রতি খিয়াল রেখে কমিটি গঠন করবো। কোন দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই কমিটিতে স্থান দেয়া হবে না।

একেএস
 

আরও পড়ুন