• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০১:২৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২, ২০১৯, ০১:২৮ পিএম

কচুরিপানার জঞ্জালে মৃতপ্রায় ইছামতি নদী 

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
কচুরিপানার জঞ্জালে মৃতপ্রায় ইছামতি নদী 

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ইছামতি নদীর অংশ দীর্ঘ দিন ধরে কচুরিপানায় ভরে আছে। হুমকির মুখে নদী। কচুরিপানার জঞ্জালে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে মরে যাচ্ছে নদীটি। হুমকিতে পড়েছে জলজ জীববৈচিত্র্য। মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জেলেদের জীবন-জীবিকাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা বলছেন, স্রোত কমে যাওয়ায় নদীটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নাব্য সংকট। জেগেছে ছোট-বড় চর। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নদীটি মরা খালে পরিণত হবে বলে তাদের আশঙ্কা। 

ধারণা করা হয় কচুরিপানার অর্কিড সদৃশ ফুলের সৌন্দর্য্য প্রেমিক এক ব্রাজিলীয় পর্যটক ১৮০০ শতাব্দীর শেষ ভাগে বাংলায় কচুরিপানা নিয়ে আসেন। তারপর তা এত দ্রুত বাড়তে থাকে যে ১৯২০ সালের মধ্যে বাংলার প্রায় প্রতিটি  নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় কচুরিপানায় ভরে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে সরকার কচুরিপানার দৌরাত্ম্য হ্রাসে বাংলার জলাভূমি আইন, বাংলার মিউনিসিপ্যালিটি আইন, বাংলার স্থানীয় সরকার আইন এবং বাংলার স্থানীয় গ্রাম সরকার আইন সংশোধন করে। ১৯৩৬ সালে কচুরিপানা আইন জারি করা হয়, যার মাধ্যমে বাড়ির আশেপাশে কচুরিপানা রাখা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেয়াকে নাগরিক কর্তব্য ঘোষণা করা হয়। 

জানা যায়, এক সময়ে ইছামতির নদীর বুকে লঞ্চ-স্টিমার চলাচল করত। কিন্তু কালের আবর্তে এখন মৃতপ্রায় নদীটি। নাব্য সংকট ও দখলের কবলে হারিয়ে যেতে বসেছে খরস্রোতা ইছামতি। এখন ইছামতির বুকে লঞ্চ আর স্টিমারের হুইসেল বেঁজে উঠে না। হাজারো মানুষ নৌযান চালিয়ে এখন আর জীবিকা নির্বাহ করে না। তাই মৃত ইছামতির বুক জুড়ে এখন জটলা পেকেছে শুধুই কচুরিপানা। এছাড়া কিছু জেলে কচুরিপানার জটলা পাকিয়ে মাছের কৃত্রিম অভয়ারণ্য তৈরি করে মাছ শিকার করে ফলে কচুরিপানা স্রোতের সাথে অন্য স্থানে যেতে পারে না। এ কারণে কচুরিপানা অন্য স্থানে যেতে পারে না।

যৌবনদীপ্ত ইছামতির তীরে সিরাজদিখান বাজার গড়ে উঠেছিল। তৎকালীন সময়ে এ বাজার হাজারো মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠত।  ইছামতি নদী ঘিরে উপজেলার ইমামগঞ্জ, গ্রীগঞ্জ, ইছাপুরা, নোয়াপাড়া, শিংপাড়া, বৌবাজার, নিমতলা, শেখরনগর, মরিচা, সৈয়দপুর, রামকৃঞ্চদী, রাজানগর, বাহের ঘাটা, টেকেরহাট এলাকায় বাজার সরগরম করত। কিন্তু এখন ওই সব বাজারের সামনে ইছামতি মরা খালে পরিণত হয়ে উঠেছে। এ সব বাজারে যাতায়াত করতে এখন আর ডিঙ্গি নৌকা চলাচল করে না। চলে না ট্রলার কিংবা লঞ্চ। এতে অসংখ্য পরিবার বেকার হয়ে পড়ে। এখন ওই সব পরিবার অন্য পেশা বেছে নিয়েছে। 

সিরাজদিখান বাজারের বাঁশ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, আমি প্রায় ৪৫ বছর ধরে বাঁশ ব্যবসার সাথে জড়িত। এক সময় ইছামতি নদী ছিল খরস্রোতা। নদীর এক তীর থেকে অন্য তীরের দৈর্ঘ্য ছিল অনেক। এখন ইছামতি নদী ছোট হয়ে গেছে। নদীর বুকজুড়ে কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় এখন বাঁশ আনা নেওয়া করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। এখন নদীতে কোন ট্রলার বা নৌকা চলাচল করে না। তাই বাজারে বাঁশ সরবরাহ করতে এখন সড়ক পথ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে খরচও বেশি লাগে। 

বাজারের রাইছ মিলের ব্যবসায়ী নজরুল শেখ বলেন, ইছামতি নদীকে ঘিরে রাইচ মিল ছিল জমজমাট। এখন কচুরিপানার কারণে নৌকা বা ট্রলার টলার চলাচল করতে পারে না। দূর-দূরান্ত থেকে বাজারের রাইছ মিলেও আসে না।

কেএসটি

আরও পড়ুন