• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০১৯, ০৩:২৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৫, ২০১৯, ০৩:২৯ পিএম

নবাবগঞ্জে ইটভাটায় অবাধে শিশুশ্রম

নবাবগঞ্জ (দোহার) সংবাদদাতা
নবাবগঞ্জে ইটভাটায় অবাধে শিশুশ্রম

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০ এর অধিক ইটভাটা। আর এসব ইটভাটার অধিকাংশের নেই সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাত্রপত্র। 
স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙলি প্রদর্শন করে, এসব ইটভাটায় চলছে অবাধ শিশুশ্রম। মারাত্মকভাবে দূষণ হচ্ছে স্থানীয় পরিবেশ। বেহাল হচ্ছে ফসলি জমি। এমটাই দাবি এলাকাবাসী ও স্থানীয় কৃষকদের।

এই অঞ্চলে অবস্থিত ইটভাটাগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়- অধিকাংশ ইটভাটার মালিক দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দার অসংখ্য শিশু, কিশোর, কিশোরীকে ইট তৈরি ও বহনের কাজে নিয়োজিত করেছে। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দিন রাত পার করছে। আর শিশুশ্রম নামক এই অমানবিক কর্মকাণ্ড দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে উপজেলার স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ফলে প্রতিনিয়ত শিশু শ্রম আইন লঙ্ঘন হচ্ছে এসব ইটভাটায়।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, নবাবগঞ্জে ইটভাটায় কর্মরত শিশু শ্রমিকরা জানায়, ১শ ইট বহন করে গাড়িতে পৌঁছে দিলে সরদার তাদের ৯৫ টাকা থেকে ১শ টাকা দেয়। আর এভাবেই প্রতিদিন তারা ২ থেকে ৩শ টাকা আয় করে থাকে। 
দোহারের খালপাড় এলাকায় কর্মরত শিশু শ্রমিক (৯) জানায়, আমাদের ইটভাটায় কোন স্কুল, মসজিদ নেই। লেখাপড়া করবো কিভাবে। লেখাপড়া করতে টাকা লাগে। 

শিশু শ্রম আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটায় কাজ করানোর বিষয়ে- মেসার্স দোহার নবাবগঞ্জ ব্রিক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক সোহাগ ভূইয়া বলেন, আমাদের এখানে কোন শিশু কাজ করে না। আমাদের সকল কাগজ আপডেট আছে। এশিয়া ব্রিক ইন্ডাস্ট্রিজ (এ.বি.আই) এর মালিক ফোন রিসিভ করেনি।

দোহার ও নবাবগঞ্জের ইটভাটাগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সী অসংখ্য শিশু, কিশোর, কিশোরী ইট তৈান ও বহনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। নেই স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বাসস্থান। 

ইটভাটা চুল্লি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার কারণে অধিকাংশ শিশু, কিশোর, কিশোরীর স্বাস্থ্যগত প্রচুর সমস্যায় ভুগছে। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে ভাটার শ্রমিকরা জানায়, কয়লার চেয়ে কাঠের দাম কম হওয়ায় ভাটার মালিকপক্ষ  বিভিন্ন গাছ ও কাঠকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে। যার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, খোস পাচড়া বেশি দেখা যায়।

দোহার খালপাড়ের স্থানীয় কৃষক বাবুল শেখ বলেন, ইটভাটাগুলোর বিষাক্ত ধোয়ায় এলাকার গাছপালা, ডোবা-নালা, পুকুর ও নদীর মাছ মরে যাচ্ছে এবং বিষাক্ত হয়ে উঠেছে আবাদি জমির মাটি। এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে। জমিতে ধান হচ্ছে না। নারকেল, পেঁপে সুপারি গাছের ফলন নেই।  তিনি কৃষিজমির পাশে ইটভাটা বন্ধসহ ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা ও নবাবগঞ্জ নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ.এম সালাউদ্দীন মসজু বলেন, শিশুশ্রম আইন লঙ্গন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা অভিযান পরিচালনা করব।

শিশু শ্রমিকদের বিষয়ে, সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসোর্স ইন স্ট্র্যাটেজিক হিউম্যান রিসার্চ ম্যানেজমেন্ট এন পরিচালক অধ্যাপক ড. ফারুক আহ্মদ বলেন, শিশুশ্রম বন্ধ করে শিশুদের আবার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করতে হবে। শিশুর প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের কল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

কেএসটি

আরও পড়ুন