• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০, ৪ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯, ০৯:১২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৬, ২০১৯, ০৯:১২ পিএম

মেয়ের কবরের পাশে বসে কাঁদছেন বাবা, মূর্ছা যাচ্ছেন মা

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা
মেয়ের কবরের পাশে বসে কাঁদছেন বাবা, মূর্ছা যাচ্ছেন মা
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্রী রুম্পার মায়ের আহাজারি - ছবি : জাগরণ

মেয়ের কবরের পাশে বসে কাঁদছেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবা। গৃহিণী মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বিজয়নগরে চলছে মাতম। রুম্পার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

মেয়ের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা নাহিদা আক্তার পারুল। বারবার চিৎকার করে বলছেন, ‘আমার মেয়েকে এনে দাও, আমার মেয়েকে এনে দাও। আমার মেয়েকে কেন মেরে ফেলল, আমি বিচার চাই, বিচার চাই।’ স্বজনেরা তাকে সান্ত্বনা দিয়েও কান্না থামাতে পারছেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহিদা আক্তার পারুল বলেন, ‘মেয়ে জরুরি কাজের কথা বলে বাইরে গেল, ফিরল লাশ হয়ে। না জানি আমার মেয়েকে কত কষ্ট দিয়ে ওরা মেরেছে। মরার সময় মেয়েটা কতবার না জানি, মা-মা বলে চিৎকার করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র-ছাত্রীদের শিফট আলাদা হওয়ায় দুই দিন ধরে মেয়ের মনও খারাপ ছিল। তার সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল কি না তা বলতে পারছি না। আমার মেয়েকে কেন মেরে ফেলল, আমি বিচার চাই, বিচার চাই।’

বাড়ির সামনে পারিবারিক গোরস্থানে মেয়ের কবরের সামনে বসেই অঝোরে কাঁদছেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবা মো. রোকনউদ্দিন। স্বজনেরা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

রুম্পার বাবা মো. রোকন উদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে রুম্পা সবার বড়। রুম্পা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আর ছোট ভাই আশরাফুল আলম রাজধানীর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত।

রাজধানী ঢাকার শান্তিবাগে একটি ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থেকে পড়াশোনা করতেন রুম্পা ও তার ছোট ভাই। পড়াশোনার পাশাপাশি রুম্পা টিউশনি করতেন। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) টিউশনি শেষে বাসায় ফেরেন রুম্পা। বাইরে কাজ আছে বলে আবার বাসা থেকে বের হন। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রুম্পার মাসহ স্বজনেরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন এটি তার মেয়ের লাশ।

এনআই

আরও পড়ুন