• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০১৯, ০৪:৪৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৭, ২০১৯, ০৪:৪৯ পিএম

দেশকে বাঁচাতে হলে আ’লীগকে বাঁচাতে হবে : ওবায়দুল কাদের

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
দেশকে বাঁচাতে হলে আ’লীগকে বাঁচাতে হবে : ওবায়দুল কাদের
লালদীঘির মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আ’লীগের সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদের - ছবি : জাগরণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই দেশ মাস্টার দা সূর্য সেনের দেশ। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার দেশ। মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর দেশ। এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম এ হান্নান, এম এম মান্নান, মহিউদ্দীন চৌধুরী, আখতারুজ্জামান বাবুর দেশ। কর্ণফুলী বিধৌত সবুজ পাহাড়ের অঞ্চল চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম স্তিমিত হলে বাংলাদেশ স্তিমিত হয়ে যাবে। এই দেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালদীঘির মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই দেশের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে সংগ্রাম-আন্দোলনে বীর কর্মীর দেশ এই চট্টগ্রামকে বাঁচাতে হবে। আমাদের অগণিত ত্যাগী কর্মী চট্টগ্রামের এখানে ওখানে-ছড়িয়ে আছে। আমি নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করব, অনেক কর্মী অতীতে ছিল, এখন তাদের কোনো পরিচয় নেই। দীর্ঘদিন দল করে দলের কমিটিতে এরা স্থান পায় না। অনুপ্রবেশকারীরা এসে বড় বড় পদ দখল করে। নেতৃত্বে সুবিধাবাদীরা যদি আসে, সেই আওয়ামী লীগ টিকে থাকতে পারবে না। এই সম্মেলনের মূল বিষয় হচ্ছে নেতৃত্ব নির্বাচন। সঠিক ও সুযোগ্য কাউন্সিলরদের কাছে গ্রহণযোগ্য, জনগণের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তিকে নেতা বানাতে হবে। বসন্তের কোকিলদের নেতা বানিয়ে লাভ নেই। দুঃসময় এলে পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মাস্তানি করে, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না। আমি আজকে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এসেছি একটি মাত্র কারণে যে চট্টগ্রাম একসময় ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার দুর্জয় ঘাঁটি। সেই চট্টগ্রাম আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনারও দুর্জয় ঘাঁটি। এই ঘাঁটিতে যে ফাটল ধরেছে সেটাকে ক্লোজ করে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সুশৃঙ্খল আওয়ামী লীগ চাই, সুসংগঠিত আওয়ামী লীগ চাই, সুবিধাবাদী চাই না। মৌসুমি পাখি, অতিথি পাখিদের স্থান নেই আওয়ামী লীগে। অতিথি পাখিরা সুসময়ে আসবে, দুঃসময়ে চলে যাবে। ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের দল ভারী করার জন্য পকেট কমিটি যারা করবে তাদের নেতা হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ক্ষমতা চিরদিন থাকে না, ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতা আজ আছে, কাল নেই। জনগণের মাঝে আমাদের থাকতে হবে। আমাদের ক্ষমতার উৎস বিএনপির মতো বন্দুকের নল নয়। আমাদের ক্ষমতার উৎস এই দেশের মাটি ও মানুষ। আমরা মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে জীবনের জয়গান গাই। আমরাই আওয়ামী লীগ। আমরা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সৃষ্টির পতাকা ওড়াই।’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদসহ সমগ্র বিশ্ব প্রশংসা করে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে আক্ষেপ করেন, অথচ শুধু প্রশংসা করতে পারে না একটি পক্ষ। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নে অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এই অভিযাত্রা তাদের গাত্রদাহ, তারা পছন্দ করছে না। এ জন্য তারা নানা ধরনের কথা বলছে। তাদের রাজনীতির মূল বিষয় বেগম খালেদা জিয়ার হাঁটুর ব্যথা আর কোমরের ব্যথা। তাদের রাজনীতির বিষয় হচ্ছে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দুর্নীতির রায় কিংবা মামলা।

এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

এনআই

আরও পড়ুন