• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০১৯, ০৪:৫৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৮, ২০১৯, ০৪:৫৫ পিএম

বিএনপির আন্দোলনের মরাগাঙে আর জোয়ার আসবে না : ওবায়দুল কাদের

বরিশাল সংবাদদাতা
বিএনপির আন্দোলনের মরাগাঙে আর জোয়ার আসবে না : ওবায়দুল কাদের
বরিশাল মহানগর আ.লীগের সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদের  -  ছবি : জাগরণ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপির আন্দোলনের মরাগাঙে আর জোয়ার আসবে না। তারা এখন দেশ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কথায় কথায় নালিশ করছে। এ কারণে তারা এখন নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে।

৮ ডিসেম্বর (রোববার) বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

বিএনপির নেতা নেই, নেতৃত্ব আসবে কোথা থেকে এমন প্রশ্ন তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, টেমস নদীর ওপার থেকে নির্দেশ আসে আর পুতুল ফখরুল নাচে। বিএনপির অস্তিত্ব কোথায়? তাদের দুই উইকেট পড়ে গেছে, আরও যাবে। অস্তিত্ব সংকটে আছে বিএনপি। বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কোথাও কোনো উন্নয়ন করেনি। দিয়েছে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট, হাওয়া ভবন। ‘আর হাওয়া ভবন মানে খাওয়া ভবন’। আওয়ামী লীগে কোনো হাওয়া ভবন নেই। দুর্নীতিতে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বিএনপি। অথচ তারা দুর্নীতির কথা বলে। ‘ভূতের মুখে রাম নাম’। জনসমর্থন হারিয়ে ফেলেছে তারা। আন্দোলন ও নির্বাচনেও ব্যর্থ হয়েছে। এখন বসে বসে গলাবাজি আর প্রেস ব্রিফিং করছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ঝড়, দুর্যোগ, অন্ধকারে লড়াই করে গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত আর জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন শেখ হাসিনা।

শুধু বাংলাদেশ নয়, তিনি সারা বিশ্বে প্রশংসিত। বিশ্বের তিনজন সৎ রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে শেখ হাসিনা একজন, চারজন পরিশ্রমী নেতার মধ্যে তিনি একজন, ১০ জন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়কের একজন শেখ হাসিনা। ৪৪ বছরের জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক, জনবান্ধব সরকার, সাহসী রাজনীতিবীদ, সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত ফোর লেন নির্মাণ করা হচ্ছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টের অভাব হবে না দক্ষিণাঞ্চলে। শেখ হাসিনা আছেন বলেই সব পাচ্ছেন। তাই আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি বরিশালে বিএনপির দৃশ্যমান কোনো কাজ নেই। তারা কী দেখিয়ে বলবে আমাদের পক্ষে রায় দাও।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। আওয়ামী লীগকে নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার উৎখাতের পাঁয়তারা করছে তারা। চক্রান্তের চোরাগলি বেছে নিয়েছে বিএনপি। এদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে হবে, মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হলে ত্যাগী কর্মীদের বাঁচাতে হবে, ত্যাগী নেতাদের বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে হবে। তাই দেশের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালের সভাপতিত্বে ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আলহাজ আমির হোসেন আমু এমপি। বিশেষ বক্তা ছিলেন পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির মন্ত্রী মর্যাদার আহ্বায়ক আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর অব. হাফিজ মল্লিক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী স ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মি আহমেদ।

এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। আর সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সদস্য গোলাম রাব্বানি চিনু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শহীদজননী শাহানারা আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন, সদর আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রমুখ।

এর আগে বেলা ১১টায় জাতীয় সংগীতের সাথে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পরবর্তীতে বেলুন-ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু। পরে একাত্তরের শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এনআই

আরও পড়ুন