• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯, ০২:২৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯, ০২:২৭ পিএম

আজ ১৩ ডিসেম্বর মির্জাপুর হানাদার মুক্ত দিবস 

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা 
আজ ১৩ ডিসেম্বর মির্জাপুর হানাদার মুক্ত দিবস 

আজ ১৩ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় মির্জাপুর উপজেলা। দীর্ঘ যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মির্জাপুরের আকাশে বাতাসে হেমন্তের দ্বিপ্রহরে উড্ডীয়ন হয় সবুজ জমিনের ওপর লালসূর্য্য খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। কিন্তু এই পতাকা এমনি আসেনি। এর জন্য মির্জাপুরবাসীকে দিতে হয়েছে অনেক রক্ত এবং পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে অনেক সম্মুখ যুদ্ধে। 

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক আহবানে সারা দিয়ে টাঙ্গাইলে গঠিত হয় সংগ্রাম পরিষদ এবং হাইকমান্ড এর নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সাংসদ ফজলুর রহমান ফারুক এবং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা। ৩ এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়ান সাটিয়াচড়ায় পাকসেনারা আসা মাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্যরা নর ঘাতকদের ওপর গুলি চালায়। দীর্ঘ সম্মুখ যুদ্ধে ১০৭ জন মুক্তিপাগল বাঙালিকে হত্যা করা হয় এবং ইপিআর নিহত হয় ২৩ জন। ৩৫০ জন পাকবাহিনী হতাহতের পর গোড়ান সাটিয়াচড়া মুক্ত হলেও পাকসেনার ঘাটি করে বসে উপজেলা সদর এবং ভড়রা ও নরদানা গ্রামে। পাকসেনারা আশপাশের গ্রামে লুটপাট আর অগ্নিসংযোগ করে নিরীহ ২৮ জন বাঙালিকে হত্যা করে। ৭ মে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা, তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা এবং ৮ মে থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবুল হোসেনের বৃদ্ধ পিতা জয়নাল সরকারকে পুড়িয়ে হত্যা, মাজম আলী, মির্জাপুর ও আন্ধরা গ্রামের রাখাল চন্দ্র সাহা, সুদাম চন্দ্র সাহা, নিতাই মেম্বার, পান্না লাল, জগবন্ধু রায় সহ ৩৮ জনকে হানাদার এবং এদেশীয় দোসররা হত্যা করে লাশ লৌহজং নদীতে নিক্ষেপ করে। সেদিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করে মির্জাপুরবাসী আজও কাঁদে। 

মির্জাপুরকে হানাদার মুক্ত করার জন্য ১৮ নভেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা চারি দিক থেকে ঘিরে ফেলে। আজাদ কামাল বীর প্রতীক, এম এ সবুর বীর প্রতীক ও রবিউল কমান্ডারের নেতৃত্বে ১৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় মির্জাপুর। ১২ ডিসেম্বর রাতে দেশমাতৃকার সূর্য-সন্তান বীরযোদ্ধারা মির্জাপুরের বংশাই, লৌহজং ও চতুর্দিকে পাকসেনাদের ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তুমুল সম্মুখ যুদ্ধ। প্রায় ৫শ মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকসেনাদের পরাজিত করে এবং পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা উড়িয়ে দেয় সবুজ জমিনের উপর লাল খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা।

এমনিভাবে বহু রক্ত, ত্যাগ-তিতীক্ষার এবং সম্মুখ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস ১০ দিন পর বংশাই, লৌহজং ও ধলেশ্বরী বিধৌত ১৪৪ বর্গমাইল আয়তন বিশিষ্ট মির্জাপুর উপজেলা। আজ থেকে ৪৮ বছর পূর্বে এই দিনে সম্পূর্ণভাবে হানাদার মুক্ত হয়। 

কেএসটি

আরও পড়ুন