• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১৫ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯, ০৩:১১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯, ০৩:১১ পিএম

শীতের তীব্রতা বাড়ছে ঠাকুরগাঁওয়ে 

শীতের তীব্রতা বাড়ছে ঠাকুরগাঁওয়ে 

ঠাকুরগাঁওয়ে ক্রমশে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। দিনের বেলায় রোদ থাকলেও সন্ধ্যার পরই ঠাণ্ডার প্রকোপ বাড়তে থাকে। শীত বাড়ার কারণে হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা ভর্তি হচ্ছে।

হিমালয়ের কোলঘেঁষা সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতি বছর শীতের তীব্রতা অন্যান্য জেলার চেয়ে বেশি। প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসে শীতের আগমন ঘটে। পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঝামাঝিতে শীতের প্রকোপ বাড়ে এ জেলায়। এ বছর একটু আগাম শীতের আগাম আগমনে কিছুটা বিপাকে সাধারণ মানুষ। 

ভোরবেলা কুয়াশাছন্ন থাকছে চারদিক। এর ফলে চলাচলের রাস্তাগুলোতে ট্রাক, বাস, মোটর সাইকেলগুলোকে দিনের বেলা হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হচ্ছে ঠাণ্ডা। রাত ৮টার পরেই শীতের কম্বল, লেপ মুড়ি দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে মানুষ। অনেকেই আগুন জ্বালিয়েও শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।  

এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। বর্তমানে গড়ে ১শ রোগী শীতজনিত রোগে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, দিনের বেলা বেশ গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাতভর বৃষ্টির মত টুপটুপ করে কুয়াশা ঝরতে থাকে। বিশেষ করে ধানের শীষে কুয়াশা বিন্দু বিন্দু জমতে দেখা যায়। সকালে যারা ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটাচলা করেন কুয়াশার কারণে তাদের কাপড় ভিজে যায়।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের বাস চালক মকবুল হোসেন জানান, ভোরবেলা গাড়ি নিয়ে বের হবার সময় রাস্তায় কুয়াশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাছাড়া শীত পুরোদমে এখনও আসেনি। পুরোদমে শীতের আগমন এর চেয়ে বেশি ঠাণ্ডা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। 

ঠাকুরগাঁও কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব উদ্দীন বলেন, বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বনিম্ন তাপামাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। 

জেলা শহরের টেকনিক্যাল মোড়, কালীবাড়ি, বাসস্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও রোডসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে লেপ-তোষক বানাতে ব্যস্ত কারিগররা। দোকানের সামনে বসে একটার পর একটা লেপ-তোষক বানাচ্ছেন তারা। 
লেপ-তোষক সেলাই কর্মী নূর আলম, জাহিদুল, রফিক নামে কারিগররা বলেন, প্রায় প্রতিদিনই তারা লেপ সেলাই করে থাকেন। সাইজ অনুযায়ী প্রতিটি লেপে তারা মুজরি পান ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। সেলাইকর্মীরাও সবাই একই নিয়মে মজুরি নিয়ে থাকেন। দিন শেষে ৫শ থেকে ৮শ টাকা রোজগার হয় তাদের। তা দিয়েই সংসার চালান তারা। 

পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি এনজিও ব্রাকের এরিয়া ম্যানেজার আবু সাঈদ বলেন, শীতকালে আমরা প্রতি বছরই শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। চেষ্টা করি তীব্র শীতে একটু গরমের পরশ দেয়ার। ঠাকুরগাঁওয়ে যখন প্রচণ্ড শীত পড়া শুরু করবে, দু-চারদিন কুয়াশায় সূর্য মানুষ দেখতে পাবে না, এমন সময়গুলোতে আমরা শীতার্ত সহযোগিতা করে ব্র্যাক। 

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী বেংরোল জিয়াবাড়ী সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এম হাসান আলী জানান, প্রতি বছর সংগঠন থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকি আমরা। এবারেও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এক সপ্তাহ পর আমরা শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করবো। 

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ইতোমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে ৩৩ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের শীতবস্ত্র প্রেরণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই সেগুলো বিতরণ শুরু হবে। এছাড়াও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কিছু লেপ তৈরি করা হয়েছে। যারা একেবারে অসহায়, তাদেরকে লেপ ও নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিন। 

তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে নিজ নিজ এলাকার পিআইও অফিসারদের সাথে কথা বলে শীতবস্ত্রের চাহিদা পাঠানোর জন্য। 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট দুস্থদের চাহিদা চাওয়া হয়েছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করে পুরোদমে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। 

কেএসটি

আরও পড়ুন