• ঢাকা
  • বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০১৯, ০৯:১৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২২, ২০১৯, ০৯:১৯ পিএম

এসআইয়ের পরকীয়ায় ভাঙল দুই বোনের সংসার

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা
এসআইয়ের পরকীয়ায় ভাঙল দুই বোনের সংসার
অভিযুক্ত এসআই মাইন উদ্দিন  - ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইন উদ্দিন ওরফে মাইনুলের পরকীয়া প্রেমে একসাথে ভেঙেছে আপন দুই বোনের সংসার। ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তাকে শাস্তি প্রদানের জন্য গাজীপুরের পুলিশ সুপার, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সদর দপ্তরের আইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক বোনের স্বামী।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অভিযোগের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ওই অভিযোগকারী কালীগঞ্জ  পৌর এলাকার দড়িসোম গ্রামের টাইলস্ মিস্ত্রি মো. আল আমিন হোসেন (৩২)। ঘটনার প্রতিবাদ করায় এসআই মাইন উদ্দিন ও তার লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলা ফাঁসানো ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে বলেও জানান আল আমিন।

এদিকে এসআই মাইন উদ্দিনের বদলির আদেশ বিগত ৬ মাস আগে হলেও এ ঘটনা জানাজানি হলে তিনি তড়িঘড়ি করে সিসি নিয়ে জেলার কাপাসিয়া থানায় যোগদান করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই অভিযোগকারী ১২ বছর আগে তিনি পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ১১ বছরের একটি ছেলে ও ৩ বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। গত ৭-৮ মাস আগে একটি মামলার তদন্ত করতে এসআই মাইন উদ্দিন আল আমিনের শ্বশুরবাড়ি এলাকায় যায়। সেখানে ৩ বছরের এক কন্যাসন্তানের জননী তার শ্যালিকার সাথে পরিচয় এবং মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান হয়। পরে তারা ফোনে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে এসআই মাইন উদ্দিন। সেই ঘটনায় শ্যালিকার সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হয়। পরে ওই এসআইয়ের বিয়ের প্রলোভনে শ্যালিকা তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন।

এর কিছুদিন পর এসআই মাইন উদ্দিন অভিযোগকারীর শ্বশুরবাড়ি যান সেখানে শ্যালিকা বাড়িতে না থাকায় আল আমিনের স্ত্রীর সাথে পরিচয় হয়। মোবাইল নম্বর আদান-প্রদানের মাধ্যমে তারা ফোনে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে তার স্ত্রীর সাথে ওই এসআই পরকীয়ায় জড়িয়ে যান। এই পরকীয়া একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। সন্তানের সামনেও একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন এসআই মাইন উদ্দিন। আল আমিন বাড়িতে না থাকলে সেখানে ওই এসআই গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাত। এ ব্যাপারে অভিযোগকারীর বাবা-মা বাধা দিলে তাদের সাথে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ হতো। এ ব্যাপারে আল আমিন তার স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করলে স্ত্রী আত্মহত্যার হুমকি দেন।

অন্যদিকে ওই এসআইয়ের সাথে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। অস্বীকার করে উল্টো আরো মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীকে চাপ দিলে সে স্বামী সন্তান রেখে না বলে বাড়ি থেকে চলে যায়। স্ত্রীর কোনো খোঁজখবর না পেয়ে আল আমিন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ (নং ৫২৯) ডায়েরি করেন। পরে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে একাধিকবার ফোনে এবং সশরীরে গিয়ে কথা বলেও কোনো কাজ হয়নি। তাই উপায়ান্তর না পেয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

এসআই মাইন উদ্দিনকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ওদের সাথে আমার ওই রকম কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবে মাঝেমধ্যে মোবাইলে কথা হতো। আসলে ফোনে সবকিছু বলা যাবে না। স্বশরীরে আসেন, পরে কথা হবে।

কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, আসলে এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তার স্ত্রী চলে যাওয়ার ব্যাপারে থানায় একটি জিডি হয়েছে বলে শুনেছি।

এনআই

আরও পড়ুন