• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯, ০১:৪৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯, ০১:৪৩ পিএম

বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ইটভাটা, নেই লাইসেন্স

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ইটভাটা, নেই লাইসেন্স

বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। মাঠের ভেতরে তালগাছের মতো দাঁড়িয়ে আছে চুল্লি (চিমনি)। চিমনির মাথায় থেকে বের হচ্ছে কালো ধোয়া। বিঘা ২০’র বেশি জায়গায় স্তুপ করা মাটি। সারি সারি করে রাখা ইট। রেলপথের কাছাকাছি কয়েকটা ঝুপড়ি ঘরের সামনে পড়ে আছে খড়ি। কাঁচা মাটি দিয়ে ইট তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিক। চিত্রটি পাবনার চাটমোহর রেল স্টেশনের পশ্চিমে থাকা সিঙ্গা মাঠের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর চালু করা হয়েছে এ ইটভাটা। এখনো মেলেনি অনুমোদন (লাইসেন্স)। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেই। কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র নিয়েও আছে প্রশ্ন। ইটভাটাটি চলছে সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে। সংক্ষেপে এ ইটভাটার নাম কেএসবি। রেলবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস সরকার ইটভাটার মালিক। আব্দুল কুদ্দুস সরকার জানান, নতুন ভাটা, গত বছর চালু করছি। লাইসেন্স আছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এখনো পাইনি; প্রক্রিয়া চলছে। কৃষি অফিসের অনাপত্তি পত্র আছে। আগে ফসল হতো এ মাঠে। 

কৃষকরা বলেন, ইটভাটার কালো ধোয়ায় ব্যাহত হচ্ছে আবাদ। কমে গেছে ফলন। আমন আর বোরো ধানের আবাদ হয় এ মাঠে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনী বলছেন, এক ফসলী জমিতেই কেবল ইটভাটা করা যাবে। এর বেশি ফসলের মাঠে ইটভাটা করা যাবে না। চিমনি যদি নিচু হয়, তবে তাপে ধান আর গম চিটা হয়। 

শুধু রেল স্টেশনের পশ্চিমে থাকা সিঙ্গা মাঠের ওই ইটভাটারই নয়, চাটমোহরের বেশিরভাগ ইটভাটারই কোন লাইসেন্স নেই। গুনাইগাছা এলাকায় ইটভাটা চলছে লাইসেন্স ছাড়া। বওশা ঘাট এলাকায় একটা ইটভাটা চলছে শুধু উচ্চ আদালতে রিটে করে। লাইসেন্স ছাড়াই রিট দিয়ে ইটভাটা চালানো যায় কিনা- জনমনে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। রিটটা করা হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিবাদি করে। লাইসেন্সের জন্য কোন রিট করা হয়নি। রেলবাজার মহেশপুর ও রামনগরসহ এলাকার বেশ কয়েকটি ইটভাটাও চলছে অবৈধভাবে। বেশিরভাগ ইটভাটায় কৌশলে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি স্থানীয় লোকজনের। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করেছে তাদের মাঝে, প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা। 

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ মোবাইল ফোনে বলেন, ওই (কেএসবি) ইটভাটাকে কোন লাইসেন্স দেয়া হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পেলে লাইসেন্স দেয়ার সুযোগ নেই। শিগগিরই অবৈধ সব ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো হবে ইটভাটায়। অবৈধ ইটভাটা চলতে দেয়া হবে না। 

কেএসটি

আরও পড়ুন