• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২০, ১১:৪৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২১, ২০২০, ১১:৪৪ এএম

 মৃত ঘোষণার কয়েক মিনিট পর নড়ে উঠলো শিশু

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
 মৃত ঘোষণার কয়েক মিনিট পর নড়ে উঠলো শিশু
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ইনকিউবেটরের রাখা শিশু জান্নাতুল -ছবি : জাগরণ

চুয়াডাঙ্গা শহরজুড়ে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক কন্যা শিশুকে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের হাসপাতাল সড়কের উপশম নার্সিং হোমে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ক্লিনিকের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটিকে যখন মৃত ভেবে প্যাকেটে ভর্তির প্রস্তুতি চলছিল ঠিক তখনই শিশুটি নড়ে উঠে। এরপর তড়িঘড়ি করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় করছে উৎসুক জনতা। 

শিশুটি সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের আবদুল হালিম ও জিনিয়া খাতুন দম্পতির।  

প্রস্যুতি জিনিয়া খাতুন জানান, রোববার বিকালে প্রসব বেদনা উঠলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডা. জিন্নাতুল আরার মালিকাধীন উপশম নাসিং হোমে ভর্তি করান। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষর পক্ষ থেকে সিজার করার কথা জানানো হলেও সোমবার ভোরে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে আমার কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ক্লিনিকের আয়া ও চিকিৎসকরা আমার মৃত কন্যা শিশু হয়েছে বলে জানায়। এরপর তাকে ক্লিনিকের মেঝেতে অযত্ম অবহেলায় ওপর রেখে দেয়া হয়।

প্রস্যুতি জিনিয়ার মা কুলসুম বেগমের অভিযোগ, মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবরে আমরা যখন দাফন কাফনের জন্যও প্রস্তুতি নেয়ার সময় সন্তানকে শেষবারের মত দেখতে যাই। এরপর ওকে কোলে নিতেই নড়ে ওঠে। এ সময় আমার চিৎকারে ডা. জিন্নাতুল আরা শিশুকে অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে গোপনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। এরপর সোমবার সকালে শিশুর পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

শিশুটির নানা সজীত মণ্ডলের অভিযোগ, শিশুটি যে বেঁচে আছে এই বিষয়টি ওই ক্লিনিকের চিকিৎসকরা কোনভাবেই মানতে চাচ্ছিলেন না। আমরা যদি ডাক্তারের কথা বিশ্বাস করলে পলিথিনের মধ্যেই সে মারা যেত।

শিশুর বাবা আব্দুল হালিম  জানান, ও সাত মাসে জন্ম নিয়েছে। আমি ওর নাম রেখেছি জান্নাতুল। সে এখন ভালোই আছে। হাত-পা নেড়ে খেলছে। পিটপিট করে তাকাচ্ছে। আমার বিশ্বাস জান্নাতুল বেঁচে থাকবে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন বলেন, সময় হওয়ার আগেই শিশুটি জন্ম নিয়েছে। তাকে ইনকিউবেটরের মধ্যে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আপাতত সে সুস্থ আছে। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ডা. জিন্নাতুল আরা বলেন, শিশুটি যখন হয় একেবারেই শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল না। নাভির কাছে কেবল ঢিবঢিব শব্দ ছিল। ৪ ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়ার পর সে কিছুটা সুস্থ হলে আমরা আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই।

একেএস