• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০, ০৯:৩০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০, ০৯:৩০ পিএম

শেবাচিম স্টাফ ব্রাদারের পর্নো ভিডিও ভাইরাল

খান রুবেল, বরিশাল
শেবাচিম স্টাফ ব্রাদারের পর্নো ভিডিও ভাইরাল
পর্নো ভিডিও ভাইরাল হওয়া সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার) রফিকুল ইসলাম  -  ছবি : জাগরণ

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে কর্মরত এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের (ব্রাদার) পর্নো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

২০ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে তার সাথে এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় অন্তরঙ্গভাবে দেখা যায়। ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কোনো এক রোগীর স্বজন বলে দাবি করেছেন অনেকেই।

তাছাড়া ওই ভিডিও রফিকুল ইসলাম নামের ওই নার্সই করেছে বলে লক্ষ করা গেছে। সম্প্রতি ভিডিওটি এক মুঠোফোন থেকে অন্য মুঠোফোনের মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও নিয়ে গোটা শেবাচিম হাসপাতালে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে দাবি করেছেন হাসপাতালে নার্সদের পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের নেতারা। ঘটনার উপযুক্ত প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন।

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম শেবাচিম হাসপাতালের মহিলা অর্থোপেডিকস ওয়ার্ডে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে কর্মরত। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াজেদ আলীর ছেলে।

যদিও পর্নো ভিডিও ধারণের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম। এমনকি যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেখানে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে সেটা তিনি নন বলেও দাবি করেছেন ওই নার্স।

সিনিয়র স্টাফ নার্স রফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, চাকরির সুবাদে  হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী কিংবা তাদের নারী স্বজনদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তিনি। সেই সখ্য থেকে প্রেমের ফাঁস এবং পরবর্তীতে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

এ জন্য নগরীর সিকদারপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নেন রফিকুল। সেখানেই ঘটত অনৈতিক কর্মকাণ্ড। তারই একটি অংশ ভাইরাল হওয়া পর্নো ভিডিওটি। স্ত্রীর অবর্তমানে কোনো এক রোগীর স্বজনকে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে আপত্তিকর সম্পর্কে জড়ান এবং গোপনে তা ভিডিও করেন, যা ভাইরাল হলে ফাঁস হয়ে যায় রফিকুল ইসলামের গোমর।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি জানাজানি হলে রফিকুলের স্ত্রী তানিয়া আক্তারের সাথে তার পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এমনকি অনৈতিক কর্মের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জানুয়ারি ঘরের মধ্যে আটকে স্ত্রী তানিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন তিনি।

বিষয়টি পুরো হাসপাতালে নার্সদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তখন শেবাচিম হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার স্বামী-স্ত্রী দুজনকে ডেকে সতর্ক করে দেন। এমনকি পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ উঠলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয় রফিকুল ইসলামকে।

এদিকে নগরীর সিকদারপাড়া এলাকায় নার্স রফিকুল ইসলামের বাড়ির মালিক রেবা আক্তার জানিয়েছেন, রফিকুলের স্ত্রী তানিয়াও হাসপাতালের স্টাফ নার্স। তিনি কর্মস্থলে গেলে সেই সুযোগে অপরিচিত নারীদের ঘরে নিয়ে আসেন রফিকুল। দীর্ঘ সময় তারা একসঙ্গে থেকে আবার চলে যান।

তিনি বলেন, বহিরাগত নারীদের নিয়ে রফিকের আসা-যাওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। সেই সন্দেহ থেকেই তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড ধরা পড়ে। এর পরপরই রফিককে বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেছি। তাছাড়া ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সম্পর্কেও আমি জানতে পেরেছি।

এদিকে স্টাফ নার্স তানিয়া আক্তারের ভাই ভোলার নার্সিং ইন্সপেক্টর আফজাল হোসেন বলেন, ‘১৩ বছর আগে প্রেমের ফাঁদে ফেলে রফিক আমার বোনকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের এতগুলো বছর পার হলেও রফিক এখনো কাবিননামা রেজিস্ট্রি করেনি। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে সে উল্টো আমাদের ধমক দেয়ার পাশাপাশি আমার বোনকে নির্যাতন করে।’

এ প্রসেঙ্গ অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী তানিয়া বেগম বলেন, ‘রফিকের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করি বিধায় আমাকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে। তার পরও দুটি সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এখনো ওর সংসার ছেড়ে যাইনি। বরং তাকে খারাপের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিয়ের আগে থেকেই রফিকের চরিত্র খারাপ। আমাকে সে মিথ্যা বলে বিয়ে করেছে। বিয়ের পরে জানতে পারি তার আগেও একটি বিয়ে রয়েছে। ওই ঘরে সন্তানও রয়েছে। তাকে তালাক দিয়ে আমাকে বিয়ে করে।’

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স রফিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘ওই ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, সেটা আমি নই। আপনাদের কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।’ এমনটি দাবি করলেও পরে বিষয়টি চেপে যাওয়ার প্রস্তাব দেন সিনিয়র স্টাফ নার্স রফিকুল ইসলাম।

এদিকে রফিকুলের এমন কর্মকাণ্ড শুধু তাকেই বিতর্কিত করেনি, হাসপাতালে কর্মরত সকল নার্সই বিষয়টি নিয়ে লজ্জাকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ভিডিও দেখে আঙুল তুলে কথা বলছে তাদের নিয়ে। ফলে রফিকুল ইসলামের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ অন্য নার্সরাও।

এমনটিই জানিয়েছেন নার্সদের পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ও শেবাচিম হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি আমিও শুনেছি। তবে এ ধরনের ঘটনা খুবই ন্যক্কারজনক। যদিও বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম এর আগেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। সে পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে বলে ফেসবুকে গুজব ছড়িয়েছিল। যে কারণে তাকে স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। নতুন করে তার এই কর্মকাণ্ডের বিচার হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। কেননা তার এই কর্মকাণ্ডের জন্য গোটা নার্স সমাজ কলুষিত হতে পারে না।

এ বিষয়ে জানতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, ‘কোনো ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনা আমার জানা নেই। তাছাড়া কেউ আমার কাছে অভিযোগ নিয়েও আসেনি। রফিকুল নামের ওই নার্স এমন কর্মকাণ্ড করে থাকলে সেটা অবশ্যই অপরাধ। এর প্রমাণ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এনআই

আরও পড়ুন