• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০, ০৯:১৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০, ০৯:১৭ পিএম

পিকনিকের ৫০ টাকা কম দেয়া

ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া প্রধান শিক্ষক স্ট্যান্ড রিলিজ

মানিক সরকার মানিক, জলঢাকা ঘুরে এসে
ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া প্রধান শিক্ষক স্ট্যান্ড রিলিজ
প্রধান শিক্ষকের লাঞ্ছনার শিকার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী কাজলীর কান্না থামছেই না  -  ছবি : জাগরণ

বনভোজনের অতিরিক্ত মাত্র ৫০ টাকা দিতে না পারায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মানসিক লাঞ্ছিত করে সরকারিভাবে দেয়া তার সব পাঠ্যবই কেড়ে নিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ার অপরাধে প্রধান শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে তোলপাড় হওয়ার পর বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশে এই আদেশ দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সামছুল আলম নামের অপর এক শিক্ষক তার স্থলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এর আগে ওই প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ধামচাপা দেয়ার চেষ্টা চালান। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গাবরোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের পক্ষে ছাত্রছাত্রীদের বনভোজনে যাওয়ার কথা। এ জন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর কাছে ২৫০ টাকা করে চাঁদা ধরা হয়। কিন্তু ওই গ্রামের দিনমজুর কৃষ্ণ চন্দ্র রায় দারিদ্র্যের কারণে তার মেয়ে কাজলী রানীকে বনভোজনে পাঠাতে ২৫০ টাকার স্থলে ২০০ টাকা দিয়ে স্কুলে পাঠান এবং প্রধান শিক্ষককে তার বাবার অপারগতার কথা খুলে বলে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ২০০ টাকা পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কাজলীকে মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করে সরকারিভাবে দেয়া তার সব পাঠ্যপুস্তক কেড়ে নেন।

এ অবস্থায় লজ্জা ও ক্ষোভে কাজলী বাড়িতে ফিরে যায় এবং বিষয়টি তার বাবাকে জানায়। পরে বাবা কৃষ্ণ চন্দ্র স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষক তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ বের করে দেন এবং দাম্ভিকতা দেখিয়ে বলেন, ‘তোমার মেয়েকে কোন স্কুলে পড়াও তা আমি দেখে নেব।’

স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক  -  ছবি : জাগরণ

পরে কৃষ্ণ চন্দ্র মেয়ে কাজলীকে স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলে ভর্তি করান এবং ২৬ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি অভিযোগ আকারে লিখে জানান। ২৭ জানুয়ারি ইউএনও বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দিলে প্রধান শিক্ষকের টনক নড়ে। তদন্তের খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি ম্যানেজ করার জন্য কৃষ্ণ চন্দ্রকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, ‘বই কেড়ে নেয়া এবং  স্কুল থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টি কাউকে জানালে তোমার সমস্যা হবে।’

একপর্যায়ে ইউএনও বরাবর যে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন, তা-ও জোরপূর্বক কৃষ্ণ চন্দ্রের কাছ থেকে প্রত্যাহার করিয়ে নেন প্রধান শিক্ষক। পরে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ধরেন বিষয়টি মীমাংসার জন্য।

এদিকে ইউএনও বিষয়টির তদন্তের পরিবর্তে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কাজলী, তার বাবা কৃষ্ণ চন্দ্রসহ সবাইকে তার কার্যালয়ে ডাকেন। মঙ্গলবার সেখানে সবাই উপস্থিত হলে ইউএনও সুজা-উদ-দৌল্লা, উপজেলা চেয়ারম্যান বাহাদুর আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টিকে ‘একটি ভুল বোঝাবুঝি’ আখ্যায়িত করে মীমাংসা করিয়ে দেন এবং ফেরত নেয়া পাঠ্যপুস্তকও কাজলীর হাতে তুলে দিয়ে তাকে ওই স্কুলেই পড়ালেখার জন্য জানান।

এদিকে বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইনসহ কিছু মিডিয়ায় প্রচারিত হলে তাৎক্ষণিক শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালকের নজরে আসে। পরে উপপরিচালক ওই প্রধান শিক্ষককে শাস্তিমূলক দুর্গম চরের কোনো বিদ্যালয়ে বদলির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় ওই প্রধান শিক্ষককে পূর্ব গোপাল চরভরাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। বৃহস্পতিবারই তিনি সেখানে এবং তার স্থলে গাবরোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামছুল আলম নামের অপর এক শিক্ষক যোগদান করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজা-উদ-দৌল্লা ওই শিক্ষকের স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি স্বীকার করেন।

এনআই

আরও পড়ুন