• ঢাকা
  • সোমবার, ২৫ মে, ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: মে ২১, ২০২০, ০৯:০০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২১, ২০২০, ০৯:০০ পিএম

বরগুনায় সাড়ে ১৩ কি.মি. বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত

নাহিদ এম হোসেন লিটু, বরগুনা 
বরগুনায় সাড়ে ১৩ কি.মি. বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত
সংগৃহীত ছবি

আম্ফানের তাণ্ডবে বরগুনায় ৯ হাজার ৮০০ ঘর-বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে বিলীন হয়ে গেছে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান হয়, এখন পর্যন্ত জেলায় কোনও  বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ির তথ্য পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি কোনও প্রাণহানি কিংবা নিখোঁজের খবরও।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে জেলা ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এর ফলে পানি প্রবেশ করে ১৩১টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩০ লাখ টাকা সমমূল্যের ২০ মেট্রিকটন মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় ২৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০ হেক্টর জমির শাক-সবজি, সাতটি আমবাগান ও পানের বরজসহ মরিচের বীজতলা।

বরগুনার কৃষি বিভাগের উপপরিচালক রমিজুল রহমান বলেন, অন্যান্য ঝড়ের তুলনায়  আম্ফানে কমই ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ কম ক্ষতিসাধনের পেছনে ছিল যথাযথ প্রস্তুতি।

তিনি বলেন, আম্ফান মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় উৎপাদিত তরমুজ, বোরো ধান ঘরে তুলে নিয়েছিলো কৃষকরা। ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছিল জেলায় উৎপাদিত ৫০ ভাগ ভুট্টা এবং ৬০ ভাগ মুগ ডাল।

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে সাধারণত কৃষি ক্ষেত্রেই বেশি ক্ষতি সাধিত হয়। কিন্তু আমাদের যথাযথ প্রস্তুতি থাকায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষেত্রে তা হয়নি। কৃষি ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিসাধন হয়েছে মুগডাল এবং ভুট্টার ক্ষেত্রে। কিছু সূর্যমুখী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বরগুনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, জলোচ্ছ্বাসের কারণে জেলার ২১৮টি মুরগি মারা গেছে। জেলায় ১৫টি মুরগির খামার এবং ১৯ টি গরুর খামারের শেড আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ এক লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

বরগুনা জেলা ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের  উপপরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পর আমি বরগুনা সদর উপজেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ নিশানবাড়িয়া এবং চালিতাতলা এলাকাসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখেছি। বেতাগী উপজেলার বদনিখালী এলাকাসহ ঘুরে দেখেছি বিভিন্ন এলাকা।

তিনি বলেন, এসব এলাকায় কিছু গাছপালা ভেঙে এবং উপড়ে পড়েছিল, তা আমরা অপসারণ করেছি 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আহমেদ বলেন, ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রুত মেরামত করার জন্য কাজ শুরু করেছি। এই সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এলাকার বেড়িবাঁধ পুনরায় নির্মাণ করতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা নাজমুল হাসান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে জেলায় ৫০ টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।‌ ১০টি খাবার পানির পুকুর ও পাঁচটি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ টাকা।

জেলা মৎস কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জেলায় ৪.৮৪ হেক্টর আয়তনের ১২১ টি মাছের ঘের এবং ৪.০৫ হেক্টর আয়তনের দশটি চিংড়ির ঘের জলোচ্ছ্বাসের পানিতে তলিয়ে গেছে। আনুমানিক ২০ মেট্রিকটন মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৪০ হাজার একর বনভূমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদী থেকে  একটি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে হরিণটি জলোচ্ছ্বাসের কারণে মারা গেছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে থেকে ১০০ পরিবারকে বাছাই করে শুক্রবার (২২ মে) নগদ অর্থ ও টিন বিতরণ করা হবে।

এসএমএম