• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২০, ০৮:৪৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ২৫, ২০২০, ০৮:৪৭ পিএম

ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকী গা ঢাকা দিয়েছেন

চট্রগ্রাম সংবাদদাতা
ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকী গা ঢাকা দিয়েছেন

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকী গা ঢাকা দিয়েছেন। দুদকে মামলা হওয়ার পর থেকে তাকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার ‘লক্ষী কুঞ্জ’ বাসায় পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি চট্টগ্রামের মাদারবাড়ি নালাপাড়া এলাকায় প্রদীপ কুমার দাশের বড় বোনের বাসায় আছেন।

৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূতসম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকীর বিরুদ্ধে ২৩ আগস্ট দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা করেন সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রদীপের স্ত্রী চুমকীর নামে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা এলাকায় রয়েছে জমিসহ ছয়তলা বিলাসবহুল বাড়ি। এ বিষয়ে চুমকী দুদককে বলেছেন, ২০১৩ সালে বাড়িটি তার বাবা তাকে দান করেছেন। কিন্তু চুমকীর অন্যান্য ভাই ও বোনদের তার বাবা কোনো সম্পত্তি দান করেননি।

শুধু তাই নয়, ২০০৬ সালে শ্বশুরের নামে কেনেন বাড়ির জমি। এরপর ৬ তলা বহুতল ভবন গড়ে তোলেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে বাড়িটি প্রদীপ অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে নিমা‍র্ণ ও জমি ক্রয় করেছেন বলে উঠে এসেছে।

এছাড়া চুমকী ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মাছের ব্যবসা করে আয় দেখিয়েছেন দেড় কোটি টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে যার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

আয়কর নথিতে কমিশন ব্যবসা থেকে আয় দেখিয়েছেন চুমকী। যেখানে ব্যবসার মূলধন হিসেবে দেখিয়েছেন ১১ লাখ ২২ হাজার টাকা আর আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে কমিশন ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া চুমকী কমিশন ব্যবসার লাইসেন্স, সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যবসা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য কিছুই দুদকে দেখাতে পারেনি।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, চুমকীর নামে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৯ টাকার সম্পদের প্রমাণ রয়েছে দুদকের কাছে। এর মধ্যে খরচ দেখিয়েছেন ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর আয় দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকা। ফলে চুমকী দুদকের কাছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার কোনো বৈধ খাত দেখাতে পারেনি।

অপরদিকে ভারতের আগারতলা, গৌহাটি ও বারাসাতে প্রদীপের বাড়ি থাকার কথা বলা হলেও প্রাথমিকভাবে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মামলার পরে প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে আরো অনেক সম্পদ থাকলে সেগুলো বেরিয়ে আসতে পারে বলে দুদক কর্মকর্তারা মনে করছেন।


জাগরণ/এমইউ

আরও পড়ুন