• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০, ০৫:২৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০, ০৫:২৫ পিএম

সিটি আভ্যান্তরীণ রাস্তা সম্প্রসারণ

প্রসংশা কুড়াচ্ছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রসংশা কুড়াচ্ছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

গাজীপুর ও টঙ্গী পৌরসভার সাথে আরও ৬টি ইউনিয়নকে দুই পৌরসভার সাথে যুক্ত করে ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনটি গঠন করা হয়। এ সিটি এলাকায় রয়েছে দুটি বিসিক শিল্প নগরীসহ কয়েক হাজার শিল্প কারখানা। আছে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সিটিতে আগে এ এলাকার রাস্তাগুলো ছিল তুলনামূলক সরু। রাস্তাগুলোতে প্রায়ই যানজট লেগে থাকত। ইউনিয়ন ও পৌরসভা থাকাকালীন সময়ে ওই এলাকাগুলির রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র এড, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি সিটি করপোরেশনের রাস্তাগুলির উপড় অধিক গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গুরু করেন। প্রথম বাজেটের পরই শুরু হয় সিটির রাস্তার উন্নয়ন ও প্রসস্ত করণ কাজ। 

গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) এর যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণ ও যানজটমুক্ত যান ও লোক চলাচলের জন্য সিটির আভ্যান্তরীণ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার সড়কের সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে ওইসব রাস্তার শতকরা ৪০ থেকে ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০২১ সালের জুন নাগাদ রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। রাস্তাগুলো সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে গাজীপুর সিটির যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন ঘটবে। এতে মানুষ যানজটমুক্তভাবে কম সময়ে গন্তবে পৌছার সুযোগ সৃষ্টি হবে গাজীপুর সিটি দিয়ে যাওয়া সবচেয়ে প্রসস্ত সড়ক ঢাক-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক। গণপরিবহনে যাতায়তের ক্ষেত্রে এই মহাসড়কগুলোই ছিল ভরসা। এরপর তৈরি করা হয় ঢাকা বাইপাস সড়ক। অবশ্য এ সড়ক দিয়ে গণপরিবহন না চললেও দেশের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের মালবাহী গাড়িগুলি এই সড়কে চলাচল করে থাকে। সিটি কপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। নির্বাচিত হয়ে তিনি সিটির সরু রাস্তাগুলো সম্প্রসরণ করা শুরু করেন। ইতিমধ্যেই সিটির রাস্তাগুলির সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম জনগনের প্রসংশা কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন ।

সিটি করপোরেশনের তত্বাবধাক প্রকৌশলী মো: মুজিবুর রহমান কাজল জানান, সিটির বিভিন্ন জোনের প্রধান সংযোগ রাস্তা (প্রসস্তকরণসহ নর্দমা ও ফুটপাত) নির্মাণ করা হচ্ছে ১৭৩.৫ কিলোমিটার। এ রাস্তাগুলো হবে ৬০ ফুট প্রশস্ত। এর মধ্যে কার্পেটিং রাস্তা হবে ৪৩.৫ কিলোমিটার, আরসিসি ৪০.৫৫ কিলোমিটার এবং ফুটপাত ও ড্রেনসহ ৮৯.৭০ কিলোমিটার। গাজীপুর সিটির ১ থেকে ৫ নং জোনে আভ্যান্তরীণ রাস্তা, ফুটপাত নির্মাণ করা হচ্ছে ১২৮.৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে কার্পেটিং ১৭.৯৫ কিলোমিটার, আরসিসি ১০১ কিলোমিটার, সিসি ৪.৬৫ কিলোমিটার এবং এইচবিবি ৫ কিলোমিটার। অবকাঠামে উন্নয়ণ প্রকল্পে ৩৬৪.৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে কার্পেটিং ২২৪ কিলোমিটার, আরসিসি ১৮.০৮ কিলোমিটার, আরসিসি ড্রেন ও ফুটপাত ১২২ কিলোমিটার। স্থানভেদে এসব রাস্তা ২০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওইসব কাজের শতকরা ৪০ থেকে ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া এডিবি সহয়তায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১০ কিলোমিটার ড্রেন, জাইকার অর্থায়নে সিটিতে ১০০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাইকার অর্থায়নে করা ৭০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

এবারও যোগাযোগখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট দিয়েছেন সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণাকালে বলেন, বিভিন্ন জোনের প্রধান সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকার রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অত্র প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জনগণের চলাচলের জন্য বিভিন্ন রাস্তা প্রশস্ত করতে গিয়ে অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রায় ৬০ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ক্ষতিগ্রস্থদের অনুদান বাবদ এক’শ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

সিটি করপোরেশনের মারিয়ালী, নাওভাঙ্গা, নেয়ামত সড়ক, লক্ষীপুরা, চতর, লাঘালিয়া, রাজবাগান, যোগীতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় কোন কোন রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলছে আবার কোন কোন রাস্তর কাজ শেষ হয়েছে।

রাজবাড়ি-হানকাটা সড়কটি আগে ছিল স্থানভেদে ১২/২০ ফুটের মতো প্রশস্থ। আজমতপুর-ইটাখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কটি সদর উপজেলার সুকুন্দি হয়ে হানকাটা রাস্তার সঙ্গে মিশেছে। সম্প্রতি ওই আঞ্চলিক সড়কের শীতলক্ষ্যা নদীর উপর চরসিন্দু ব্রীজ উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে নরনিংদী ও গাজীপুর এই দুই জেলার মধ্যে নুতন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। অপরদিকে রাজবাড়ি-হানকাটা রাস্তাটি সম্প্রসারণ করে করা হয়েছে প্রস্থে ২০/৩০ফুট। সিটির রাস্তাটি সম্প্রসারিত হওয়ায় পর এখন এ রাস্তায় বাস চলাচল করছে। শুধু তাই নয় ব্রীজ উদ্বোধনের পর থেকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লারী চলাচল শুরু করেছে। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে সিটি করপোরেশনে বসবাসরত জনগণ ও দূরদুরান্তের যান চলাচলে খুলে যাবে এক নতুন দিগন্ত।

জাগরণ/এমএইচ 

আরও পড়ুন