• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০, ০৮:৪৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০, ০৮:৪৭ পিএম

আ.লীগের দু’গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায়  দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাংচুর

নেত্রকোনা সংবাদদাতা
আ.লীগের দু’গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায়  দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাংচুর

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। 


গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন রাসেলকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদেরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত  মোহনগঞ্জ পৌরশহরে  উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র লতিফুর রহমান রতনের গ্রুপের নেতামকর্মীদের সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহীদ ইকবাল গ্রুপের লোকজনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পৌর শহর জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার সকালে থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টা  থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের এই বিবদমান দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহরের ১০টিরও অধিক দোকানপাট ও বেশ কয়েকটি বাসা বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় শহরে বসুন্ধরা মোড় এলাকায় হামলা চালিয়ে ৫টি মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।  

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র লতিফুর রহমান রতন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌর পাবলিক হল মিলনায়তনে শেখ রাসেল শিশু কিশোর সংগঠনের পরিচিতি সভা ছিল। ওই অনুষ্ঠানে আমাকে প্রধান অতিথি করা হয়। এ নিয়ে ওই গ্রুপের মধ্যে হয়তো ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুরা এখানে অনুষ্ঠান শেষ করে পাশের ছোট অফিসটিতে গিয়ে বসতেই অপর গ্রুপের কিছু নেতাকর্মী এসে ঝগড়া বাধায়। এক পর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে অফিসে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবিটিও ভেঙ্গে ফেলে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শহীদ ইকবাল বলেন, মেয়রের গ্রুপের লোকজনই ঝগড়া বাধিয়ে প্রথমে হামলা চালায়। এতে আমাদের যুবলীগ নেতাসহ চারজনকে আহত করে। সেইসাথে নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়েও হামলা চালায় তারা। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। পরবর্তী সময়ে তারা বাজারে হামলা চালিয়ে ১০টিরও বেশি দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। এসময় ৫টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে  থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আহাদ খান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাগরণ/এমইউ