• ঢাকা
  • শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০, ১২:৪০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০, ১২:৪০ পিএম

কৃষকদের প্রিয় হয়ে উঠছে কেঁচো জৈব সার

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
কৃষকদের প্রিয় হয়ে উঠছে কেঁচো জৈব সার

ক্রমাগত রাসায়নিক সারের ব্যবহার বাড়ায় কমে যাচ্ছে কৃষিজমির উর্বরতা। এর ফলে ফসলের উৎপাদন আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কৃত্রিম সারের ওপর। এক্ষেত্রে একেবারেই ব্যতিক্রম ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। ফসলি জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি এবং অধিক ফলনের লক্ষ্যে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছেন তারা। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে ফল-ফলাদির বাগান। বাগান সৃজনের পাশাপাশি ভার্মি কম্পোস্ট সারের চাহিদাও বেড়ে যাওয়ায় এগিয়ে এসেছেন অনেক কেঁচো সার উৎপাদনকারী। 

কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোটোবেলায় বাপ-চাচারা যেভাবে চাষ করতেন এখন সার ব্যবহার ও চাষ পদ্ধতিতে কিছুটা বদলেছে। এমনকি ক’বছর আগেও যতটা সার লাগত, এখন তার চেয়ে বেশি লাগছে। নতুন নতুন রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। আর ফলনও সন্তোষজনক নয়। সব মিলিয়ে তার খরচ বেড়েছে। কেঁচো কম্পোস্ট একটি জৈব সার যা জমির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। জৈব সার ব্যবহার করেও অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

তাদেরই একজন জাগো এগ্রো সলিউশন এর পরিচালক বদরুল হায়দার বেপারী কেঁচো সার তৈরিতে এলাকার একজন সফল চাষি তিনি। 

নিজের উৎপাদিত কেঁচো সার বিক্রি করে সংসারে এসেছে সফলতা। সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক পরেশ সবজি ক্ষেতে কীটনাশক ছিটাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আগের চেয়ে কীটনাশক বেশি দিতে হয়। কারণ রোগ বালাই বেড়েছে। দু’জনই একটি বিষয়ে একমত যে, ভালো ফলনের জন্য আগে যতটা খরচ আর শ্রম দিতে হত, এখন তার চেয়ে বেশি দিতে হয়। অর্থাৎ সমৃদ্ধ ফলনের জন্য জমির প্রাকৃতিক সক্ষমতা কমছে। 

প্রশ্ন হলো, এর কারণ কী? এ অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কৃষিজমির উৎকৃষ্ট ব্যবহার। সেক্ষেত্রে জৈব পদ্ধতিতে চাষ সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এই পদ্ধতির সুবিধা হলো, এতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয় স্বল্পমাত্রায়। 

কৃষক বাবুল জানান, জৈব সার প্রয়োগ ও জৈব বালাইনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ও সবজির উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব। রাসায়নিক সারের চেয়ে খরচ কমায়।  

মানুষের রোগজ্বালা ক্রমে বাড়ছে। এর একটা কারণ হলো দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেসব খাবার খাচ্ছি, তার চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে। অজান্তেই এসব রাসায়নিক শরীরে ঢুকে যাচ্ছে। তার প্রভাবে কিডনি বিকল হওয়া থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিও হচ্ছে। এই সমস্যার সহজ সমাধান জৈব পদ্ধতিতে চাষ। জৈব পদ্ধতিতে কেঁচো সারের ব্যবহার বাড়ানো গেলে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। এতে চাষের খরচের পাশাপাশি স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকিও কমে যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কৃন্ষ রায় জানান, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনকারিদের মধ্যে সরকারের প্রণোদনার পরিমাণ আরও বাড়ানো গেলে এ পেশায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা যেমন সৃষ্টি হবে, তেমনি রাসায়নিক সারের ওপর কৃষকদের চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। 

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী হোসেন  বলেন, যেসব কৃষক বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করে অধিক উৎপাদনের বিপরীতে ধীরে ধীরে নিজ জমির উর্বরতা-শক্তি হারাচ্ছেন তাদের জন্য ‘কেঁচো-সার’ নিঃসন্দেহে একটি শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে প্রমাণিত।

জাগরণ/এমএইচ

আরও পড়ুন