• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০, ১১:৪৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০, ১১:৪৪ এএম

উঠছে জুমের ফসল, পাহাড়িদের মুখে হাসি

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা
উঠছে জুমের ফসল, পাহাড়িদের মুখে হাসি

শুরু হয়েছে পাহাড়িদের জুমের পাকা ধান ও অন্যান্য ফসল ঘরে তোলার মহোৎসব। পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ে পাহাড়ে এখন জুম কাটার ভরা মৌসুম। তাইতো পাহাড়ি পাড়াগুলোতে চলছে এখন ফসল তোলার কর্মব্যস্ততা।

চলতি মৌসুমে পাহাড়ে ফলন ভালো হয়েছে। যা দিয়ে আগামী ৯-১২ মাসের খাদ্যের জোগান হবে বলে আশা করছেন বেশিরভাগ জুমিয়ারা। 

জানা গেছে, পাহাড়ী নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পেশা জুম চাষ হলেও দিনে দিনে বিকল্প চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। বৈরী আবহাওয়া, মাটির উর্বরতার কারণে ফলন কমে যাওয়ায় জুম চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়ি জেলার ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে জুম ধান চাষ হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার জুম চাষ করেছে।

বিভিন্ন প্রকার স্থানীয় ধানের পাশাপাশি হাইব্রিড ধানও চাষ করেছে জুমিয়ারা। ধানের পাশাপাশি লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, বাঙ্গি, ঢেঁড়স, ভুট্টা, পুঁইশাকসহ নানা শাক-সবজিও চাষ করেছেন জুমিয়ারা।  তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ধানসহ অন্যন্য ফসল ঘরে তুলতে। পাহাড়ের ঢালকে চাষাবাদ উপযোগী করে বৈশাখ-জ্যেষ্ঠ মাস থেকে ধান ও বিভিন্ন শাক-সবজির বীজ বপন করেন জুমিয়ারা। বৃষ্টির পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে ফলানো ফসল কাটা করা হয় ভাদ্র-আশ্বিন থেকে। কয়েক দশক আগেও এ চাষাবাদে জুমিয়াদের আগ্রহ থাকলেও দিন দিন তা কমছে। জুমের অনুকূল আবহাওয়া, মাটির উর্বরতা না থাকায় এবং পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে মিশ্র ফলসহ অন্যান্য বাগানের চাহিদায় বাড়ায় হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ চাষাবাদ পদ্ধতি।

স্থানীয় জুম চাষিরা বলেন, জুমে এবার ভালো ধান হয়েছে এবং কমপক্ষে ৯ মাসের চালের জোগান জুম চাষ হতেই আসবে। অনেক জুমিয়াই পুরো বছরের খাদ্যের জোগান জুম হতে আসবে। জুমে ভালো ধান ও শাক-সবজি হয়েছে এবার। তবে বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত বাকি শাক-সবজি কম দামে বিক্রয় করতে হচ্ছে।

জাগরণ/এমআর