• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০, ০২:০১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০, ০২:০১ পিএম

৪র্থ দফা বন্যায় রোপা আমন ও শীতকালীন সবজির ক্ষয়ক্ষতি

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
৪র্থ দফা বন্যায় রোপা আমন ও শীতকালীন সবজির ক্ষয়ক্ষতি
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলে গেছে ২ হাজার ১শত ৯০ হেক্টর জমিতে চাষ করা রোপা আমন ফসল। ছবি-জাগরণ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে রোপা আমন ও শীতকালীন শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সবজি ও রোপা আমনের ক্ষেত। ঢলের পানির সাথে সাথে তলিয়েও যাচ্ছে কৃষকের আঁকা স্বপ্ন। এভাবে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৮১ হাজার তিনশত ৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ১শত ৯০ হেক্টর রোপা আমন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও শীতকালীন শাকসবজির মধ্যে লাউ, শিম, শসা, টমেটো ইত্যাদি সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এতে করে জেলার কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আমন ধানের চারা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জেলার দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক, জামালগঞ্জ ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ফসলের বেশি ক্ষতি সাধিত হয়েছে। 

কৃষকরা জানান, পর পর তিন দফা বন্যার মোকাবেলা করে নতুন করে বাঁচার আশায় আমন ধানের চারা রোপন করেছিলাম আমরা। তাও বন্যার কারণে বিলম্ব হয়েছে রোপনের কাজ। 

কিন্তু, সব সাধকের বড় সাধক আমাদের দেশের চাষারা তো আর হেরে যাওয়ার পাত্র নয়। তাই সবকিছু উপেক্ষা করে প্রকৃতির সাথে লড়াই করে আমন ধান লাগিয়েছিল তারা। তবে শেষ রক্ষাটাও আর হলো না। প্রকৃতির অবিচারের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে কৃষকদের। বন্যার পানিতে জেলার আমন ধানের ক্ষেতসহ বিভিন্ন শাক-সবজি তলিয়ে গেছে। আর এভাবে পানিবৃদ্ধি
অব্যাহত থাকলে কৃষকদের কোন আশা আর অবশিষ্ট থাকবে না। পানির নিচে পঁচে যাবে কৃষকের আঁকা স্বপ্ন। তবে এখনো কৃষকদের বুকে আশা লুকিয়ে আছে;  হয়তো প্রকৃতি তাদের পক্ষে যাবে। যদি দ্রুত পানি হ্রাস পায় তাহলে কৃষকরা গোলায় ধান তুলতে পারবেন বলে এখনো বুকে স্বপ্নের সঞ্চার করে রেখেছেন। তাদের মতে পানি দ্রুত সটকে গেলে ধানের ক্ষতি হলেও পুরোপুরি ক্ষতির সম্ভাবনা কম। কে জানে কৃষকের সে স্বপ্ন কি আর বাস্তবে রূপ নেবে। 

দেশে একদিকে মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস অন্যদিকে পরপর ৩ দফা বন্যা, এই দূর্যোগের কবলে পড়ে কৃষকদের আর্থিক অবস্থা একেবারেই খারাপ। এরপর ৪র্থ দফা বন্যায় যদি শেষ অবলম্বন রোপা আমন ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়, তাহলে কৃষকদের দুর্ভোগের আর শেষ থাকবে না।

তাহিরপুর উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মতিন জানান, টানা তিনবারের বন্যার সাথে মোকাবেলা করে নতুন করে বাঁচার আশায় রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত করেছি। এগুলোও এখন পানির নিচে। আমাদের আর বাঁচার কোন পথ রইল না। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য চাই। 

আরেক কৃষক জানান, মহামারী করোনা ভাইরাস ও পরপর ৩ দফা বন্যায় আমরা নিঃস্ব। চলতি বন্যায় আমাদের শেষ ভরসাও ডুবে গেছে। সরকারী অনুদান ছাড়া আমাদের আর বাঁচার উপায় নেই। তাই
সরকারের কাছে অধিকহারে ত্রানের আবেদন করছি আমরা।

এ ব্যপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সফর উদ্দিন জানান, এ বছর জেলায় ৮১ হাজার তিনশত ৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১শত ৯০ হেক্টর  রোপা আমন ফসল পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী যাদুকাটা ও সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী। যদি ৪/৫ দিনের মধ্যে পানিটা সরে যায় তাহলে ফসলের আংশিক ক্ষতি হবে পুরোপুরি ক্ষতি হবে না বলেও জানান তিনি।

জাগরণ/এমএইচ

আরও পড়ুন