• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০, ১১:১০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০, ১১:১০ এএম

বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলে নিমজ্জিত নিম্নাঞ্চলের ফসল

নওগাঁ সংবাদদাতা
বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলে নিমজ্জিত নিম্নাঞ্চলের ফসল
বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সদ্য রোপন করা আমন ধানের ক্ষেত পানিতে তলে গেছে। ছবি- জাগরণ

গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির ফলে আত্রাই নদীর সকল পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে নওগাঁ শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর লিটন ব্রীজ পয়েন্টেও বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যার কারণে প্রতিদিনই নিমজ্জিত হচ্ছে জেলার রাণীনগর, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার নিমাঞ্চলগুলো। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে সদ্য রোপন করা আমন ধানের ক্ষেত।

জেলার কয়েক লাখ জনগণের মাঝে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যাতঙ্ক। টানা দেড় মাসের বেশি সময় বন্যার পানির সঙ্গে যুদ্ধ করার পর জেলার প্রান্তিক কৃষকেরা চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পানি বৃদ্ধির ফলে ৪র্থ দফায় রোপনকৃত আমন ধান তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জেলার আত্রাই উপজেলার পাঁচটি স্থানে মান্দা-আত্রাই নদীর বেড়ীবাধঁ ভেঙে ৮টি ইউনিয়নের অর্ধ-শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। ফলে শত শত পুকরের মাছ ভেসে যায়। হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ফসলের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয় দফায় আগষ্টের শেষের দিকে আবারও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দেয়। এই অবস্থায় নদীর পানি কমে গেলে কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা প্রচেষ্টায় লেঘে পড়ে। 

আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি কখনও কমছে, আবার কখনও বাড়ছে। পানির এই হ্রাস বৃদ্ধিতে নদীর অরক্ষিত তীরে ভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে মানুষের মধ্যে বন্যার আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যায় ফসল হারানো কৃষক দ্বিতীয় দফায় আবার নতুন ফসল লাগানোর প্রস্তুতি নিলেও তারা এখন বেশ আতঙ্কে ভুগছেন।

বেশ কয়েক দিন ধরে নতুন করে নদীর পানি বাড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ কারণে এবারও সেপ্টেম্বরে বন্যার আশঙ্কায় অনেক কৃষক শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু করতে দ্বিধায় ভুগছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক বন্যায় এখনো বিধ্বস্ত বন্যাদুর্গত এলাকাগুলো। ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি মেরামতে এখনো সফল হতে পারেনি নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।

জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, জেলা রাণীনগর উপজেলায় এ পর্যন্ত ৭৫০ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ১১৪৫ হেক্টর ও মান্দা উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমির আমন ধান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। গত বছর আমন চাষের মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে চিনি আতপ ধানের চাষ হয়েছিল। এতে করে কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হয়েছিল। এবারে আগাম বন্যার পানি মাঠে চলে আসায় আমনচাষ ব্যহত হতে পারে।

উপজেলা ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আজাদ প্রামানিক বলেন, জমিতে ধান কাটা শেষ না করতেই মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পানিতে ভরে গেছে, জমির পানি একটু কমলে আবারও বাড়ার কারণে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করতেই পারলাম না। কিভাবে আমন চাষ করবো তা নিয়ে হতাশায় রয়েছি।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফউজ্জামান খান বলেন, নওগাঁর আত্রাই নদীর সকল পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ছোট যমুনা নদীর পানিও বর্তমানে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাধগুলো পরিদর্শন করছি। চেষ্টা করছি যতটুকু মেরামত করা যায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই-তিন দিন পানি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

জাগরণ/এমএইচ
 

আরও পড়ুন