• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২০, ০৬:৫৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২০, ২০২০, ০৬:৫৮ পিএম

সড়ক নয় যেন চাষের জমি!

নওগাঁ সংবাদদাতা
সড়ক নয় যেন চাষের জমি!

এলজিইডির আওতায় নওগাঁর রাণীনগর-কালীগঞ্জ-আত্রাই সড়কটি বর্তমানে ধান চাষের জমিতে পরিণত হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির প্রেমতলী থেকে আত্রাই অভিমুখের বনমালীকুড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩কিলোমিটার রাস্তাটির মাঝে প্রায় শতাধিক বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শুকনো মৌসুমে এপাশ ওপাশ দিয়ে যেতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে হেটে যাওয়াই ঝুঁকিপূর্ণ। 

অপরদিকে বনমালীকুড়ি থেকে আত্রাই যাওয়ার প্রায় সাড়ে ১৩কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ অংশেই পাকা উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে বছরের পর বছর এই অঞ্চলের প্রায় শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষকে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। চলাচলের এটিই একমাত্র সড়ক হওয়ার কারণে কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের মানুষদের বছরের পর বছর চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়ক খারাপ হওয়ার কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন দীর্ঘদিন। 

শড়িয়া গ্রামের শফিকুর, হালিমসহ অনেকেই বলেন শড়িয়া, বনমালীকুড়ি, কালীগঞ্জসহ প্রায় শতাধিক গ্রামের মানুষদের নওগাঁ, রাণীনগর, আত্রাই চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। কিন্তু বছরের পর বছর কোন সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় আজ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বড় বড় খানা খন্দে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে গর্তে পানি জমে থাকার কারণে বোঝা যায় না যে কোনটি সড়ক আর কোনটি গর্ত। এই একটি সড়ক আমাদের জীবন চাকাকে থেমে দিয়েছে। কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হলে সেই অঞ্চলের মানুষদের জীবনমান কখনোই বদলায় না। এই সড়কসহ গ্রামের অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয় বলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে অন্য এলাকার মানুষরা তাদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে চায় না। প্রতিদিনই গর্তে ছোট ছোট যানবাহন পড়ে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা আর নষ্ট হচ্ছে ভ্যান, অটোচার্জারসহ অন্যান্য যানবাহন। তাই এই অঞ্চলের মানুষদের ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর লক্ষ্যে সড়কটি দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ীত্বের পরিকল্পনা গ্রহণ করে দ্রুত নতুন করে নির্মাণের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

নওগাঁ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম বলেন- এই সড়কটির বেহাল দশার বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সড়কটির সংস্কারের কাজের প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেছে। দ্রুতই দরপত্র আহ্বান করা হবে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই আগামী মাস থেকে এই সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।