• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২০, ১০:২২ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২৫, ২০২০, ০২:০২ পিএম

অনুদান কেউ কী ফেরত নেয়, প্রশ্ন জনমনে

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা  
অনুদান কেউ কী ফেরত নেয়, প্রশ্ন জনমনে

চাটমোহরের প্রতিটি পূজামণ্ডপের বিক্রি করা ৫০০ কেজি চালের মধ্যে ৩৪ কেজির টাকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সনাতন ধর্মালম্বীসহ গোটা উপজেলায়। পূজামণ্ডপ কমিটির নেতাদের অভিযোগ, এ চাল বিক্রির টাকা সংগঠন চালানোর খরচ হিসেবে রেখে দিয়েছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষদটির নেতারা দাবি করেছেন- ‘অনুদান’ হিসেবে পূজামণ্ডপ কমিটির নেতারা এ চালের টাকা সংগঠনকে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে ইতোমধ্যেই ৯ টি পূজামণ্ডপ কমিটিকে ‘অনুদান’র টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। দৈনিক জাগরণসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নিজেদের অপকর্ম লুকাতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টাকা কেটে রাখার বিষয়টিকে ‘অনুদান’ হিসেবে দাবি করছে পরিষদের নেতারা।   

উপজেলায় ৪৭টি মন্দিরের প্রতিটিকে পূজা উদযাপনে সার্বিক খরচে সহায়তা হিসেবে ৫০০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। এ চাল পূজা উদযাপন সংশ্লিষ্ট কাজেই ব্যবহার করার কথা। এ কথা জানিয়েছেন চাটমোহর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামীম এহসান। দুর্গাপূজার সার্বিক খরচের সহায়তা (অনুদান) হিসেবে পাওয়া সরকারি চাল বিক্রির টাকা কোন সংগঠনকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার সুযোগ আছে কিনা, অনুদান দিলে প্রতিটি মণ্ডপ কেন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ চালের টাকা দিল, স্বেচ্ছায় হলে অনুদানের টাকার অঙ্ক কেন কম-বেশি হলো না, স্বেচ্ছায় দেওয়া অনুদানের টাকা ফেরত নেওয়ার নজির দেশে আদৌও আছে কিনা, সরকারি চাল বিক্রির টাকা পূজামণ্ডপ কমিটি পূজার বাইরে অন্য খাতে ব্যয় করতে পারে কিনা, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। এ বিষয়গুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।

আরো পড়ুন: অনেক মন্দিরই ৩৪ কেজি চালের টাকা পায়নি!

সংগঠনটিতে থাকা অনেক পূজামণ্ডপের ৩৪ কেজি চাল বিক্রির টাকা নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক জাগরণসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে।এরপর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা স্বেচ্ছায় অনুদান দেওয়ার বিষয়ে ও অনুদানের টাকা আবার  গ্রহণের বিষয়ে সই-সাক্ষর নেওয়ার জন্য দৌড়-ঝাপ শুরু করে। তবে তাদের কর্মকাণ্ড পছন্দ না হওয়ায় অনেকেই সই সাক্ষর করেননি বলে জানা যায়। পরবর্তীতে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পূজা উপযাপন পরিষদের নেতারা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শহরের দোলবেতীতলায় তাদের অফিসে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার দত্ত  (চৈতন্য) লিখিত বক্তব্যে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু জনবিচ্ছিন্ন কুচক্রী মহল চাল বিক্রির ১৩ শত টাকা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। সেই সঙ্গে পাবনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের কাছেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেন। বিভ্রান্তকর পরিস্থিতির পরবর্তীতে পাবনা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নির্দেশে অনুদান দেওয়া পূজাম-পের কমিটিগুলোকে তাদের অনুদান ফেরত নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। ৯টি ছাড়া বাকি পূজামণ্ডপের কমিটির নেতারা টাকা ফেরত নেয়নি। বরং আরো টাকা প্রদানের কথা জানিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়-  রাষ্ট্রীয় দিবস, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই চাটমোহরের ভক্তরা, দাতারা এবং দুর্গাপূজা মণ্ডপ কমিটির নেতারা প্রতি বছরই কিছু কিছু অনুদান দেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও প্রতিটি পূজামণ্ডপ ১৩ শত টাকা দেয়। এ টাকা পরিষদের কোষাগারে গচ্ছিত রয়েছে।
  
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বেশি দাম পাওয়ার জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাওয়া ৫০০ কেজি চাল একত্রে বিক্রি করা হয়। পূজামণ্ডপের ইউনিয়ন কমিটি, পৌর কমিটি ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সমন্বয় করে এ চাল বিক্রি করা হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপ ৫০০ কেজি চালের দাম ১৯ হাজার টাকা প্রাপ্য হয় ও সমুদয় টাকা বুঝে নেয়।   

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশোক চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদটির সাংগঠনিক সম্পাদক কিংকর সাহা,পৌরসভা সভাপতি শম্ভুনাথ কুন্ডু,সাধারণ সম্পাদক তরুন পাল,চাটমোহর নতুন বাজার পূজা মন্ডপের সভাপতি অনুপ কুন্ডু,হান্ডিয়াল ইউনিয়ন সভাপতি দীলিপ ব্রম্মচারীসহ কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটির নেতারা ও বিভিন্ন পূজামন্ডপের সভাপতি ও সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, সেখানে উপস্থিত একটি মন্দির কমিটির নেতা জানান, আমরা ১৩শত টাকা  ফেরত নেইনি, গ্রহণ করেছি। পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এটা করা হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদ এ ১৩শত টাকা কেটে রেখে দিয়েছিল। এতে আমাদের সম্মতি ছিল। 

জাগরণ/এমকে/এমআর